ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নীতিতে আমরা সবাই বিশ্বাস করি। আমাদের সৌহার্দ্য, সমপ্রীতি ও সম্পর্কের মূল কথাই হলো মানবতা। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকায় প্রয়াত সাংবাদিক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক পথিক সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এ কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াবো, মানুষের জন্য কাজ করবো এবং মানুষকে ভালোবাসবো। তবেই একটি সুন্দর দেশ, সমাজ ও পরিবার গঠন করা সম্ভব। মন্দির পরিদর্শনকালে সার্বিক নিরাপত্তা ও আবহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে যেখানেই যাচ্ছি, মন্দিরে আমাদের মুসলিম ভাইদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করছি। এটি আমাদের পারস্পরিক সুসম্পর্কেরই উজ্জ্বল প্রমাণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, মানিকগঞ্জের এই দীর্ঘদিনের মিলনমেলা, সমপ্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির ওপর জোর দিয়ে রিতা বলেন, আমরা যে ধর্মের বা বর্ণের হই না কেন, দিনশেষে আমরা সবাই মানিকগঞ্জের মানুষ। এই মাটিতেই আমাদের জন্ম এবং মৃত্যুর পর সবাই এই মাটির সঙ্গেই মিশে যাবো। তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত-নিজের এলাকা, গ্রাম ও এলাকার মানুষকে ভালো রাখা এবং রক্ষা করা। এসময় প্রয়াত সাংবাদিক পথিক সাহার পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তার বড় ভাই অধ্যাপক প্রণয় সাহা। তিনি খাদ্যমন্ত্রীর এমন আন্তরিক উপস্থিতি ও সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সোমবার বিকাল থেকে শুরু করে রাত দুইটা পর্যন্ত সাটুরিয়া এবং সদর উপজেলার ১৭টি পূজামণ্ডপ সরজমিন পরিদর্শন করেন খাদ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ভক্ত ও পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদিকে মঙ্গলবার দুর্গাপূজার নবমী উৎসব উপলক্ষে ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘গঙ্গাচরণ মালাকার বাড়ি’ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন খাদ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রামসহ বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও তোরণ উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং সারা দেশে মানিকগঞ্জের সমপ্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। ?পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলা ও স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
