সিলেটে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রবাসী ভাই-বোনের

সিলেটে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রবাসী ভাই-বোনের

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরের সুবিদবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে প্রায় এককোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছেন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভাই-বোন। মঙ্গলবার সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও তাজিন ইসলাম চৌধুরী। তারা তাদের ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, তাদের বাবা এনামুল ইসলাম চৌধুরী ২০২১ সালের ৩রা জানুয়ারি মারা যান। ২০২২ সালের ২৮শে মার্চ নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী, সুবিদবাজারে ব্র্যাক ব্যাংকের ভবনের অর্ধেক এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারের ভূমির অর্ধেক তাদের প্রাপ্য। কিন্তু খতিয়ান নম্বর ২০৩৬৫ ও ২০৩৬৮-এর আওতাধীন জমি, কমিউনিটি সেন্টার ও ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে ভাড়া দেয়া চারতলা ভবন তাদের ভাই, মা ও সহযোগীরা দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, তাদের অনুপস্থিতিতে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মাসুক মিয়া, নওশেবা ফারাহ তুনা ও বুলবুল নাহার চৌধুরী তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। ওই দলিল ব্যবহার করে ২০২১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের সুবিদবাজার শাখার ভাড়া থেকে তাদের প্রাপ্য আনুমানিক এককোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দলিল তৈরির সময় তারা দু’জনই বিদেশে ছিলেন বলে দাবি করেন এবং পাসপোর্টের ভ্রমণসংক্রান্ত নথিকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোতোয়ালি সিআর মামলা নম্বর ৪৯৭/২০২৬ দায়ের করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিলেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ ও স্বাক্ষর পরীক্ষার আদেশও দেয়া হয়েছে। গত ২২শে এপ্রিল কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা প্রত্যাহারের ঘোষণাপত্র সম্পাদন করেছেন বলেও জানান তারা।

তারা জানান, ২০২৫ সালে দেশে এসে সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টনের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে বিরোধ বাড়ে। গত ১৫ই অক্টোবর রাত আটটার দিকে সুবিদবাজারের বাসায় অবস্থানকালে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও বুলবুল নাহার চৌধুরী ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ তাদের। এ ছাড়া বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা, ইন্টারপোলের পরোয়ানা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় ১৫ই অক্টোবর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং সম্পত্তি প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানান। দেশে তাদের অনুপস্থিতিতে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলু সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তারা।