বিসিএসে মেধা তালিকায় ২৮তম হয়েও গেজেট বঞ্চিত জুলাইযোদ্ধার আত্মহত্যার ঘোষণা

বিসিএসে মেধা তালিকায় ২৮তম হয়েও গেজেট বঞ্চিত জুলাইযোদ্ধার আত্মহত্যার ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

বিসিএসে মেধা তালিকায় ২৮তম হয়েও গেজেট-বঞ্চিত জুলাইযোদ্ধা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান। ফেসবুকে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান তার ফেসবুক আইডিতে এই পোস্ট দেন। পোস্ট দেয়ার ৯ ঘণ্টায় পোস্টটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে তিনি লিখেন, আমি মনিরুজ্জামান, সেশন ২০১৫-১৬, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৫তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডার গেজেট-বঞ্চিত। সুস্থ মস্তিষ্কে ঘোষণা করতেছি। বৃহস্পতিবারের মাঝে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে, আগামী শুক্রবার ২৩ অক্টোবর সকল মিডিয়ার সামনে, জুলাই চত্বরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করবো। সৃষ্টিকর্তা আমাকে ক্ষমা করে দিও।

মনিরুজ্জামান বলেন, এই রাষ্ট্র আমার না। চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফলাফল আজ শূন্য। কীভাবে বৃদ্ধ বাবার সামনে যাবো- জানি না। শুধু একটাই প্রশ্ন-কী অপরাধে মেধা তালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও বাদ দেয়া হলো। আমাকে ক্রসফায়ার দিয়ে দেন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। ৪৫তম বিসিএস’র চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়ে এভাবেই নিজের চরম ক্ষোভ ও হতাশার কথা বলছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) কর্তৃক প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএস’র চূড়ান্ত ফলাফলে মনিরুজ্জামান মৎস্য ক্যাডারে মেধা তালিকায় ২৮তম স্থান অর্জন করে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে সমপ্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না দেখে হতবাক হয়ে পড়েন এই অদম্য মেধাবী। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা সাফল্যের সঙ্গে পাস করার পরও কেন চূড়ান্ত গেজেট থেকে বঞ্চিত হতে হলো, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই মনিরুজ্জামানের কাছে।

অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে কেন বাদ দেয়া হলো, এর কোনো উত্তর আমার জানা নেই। আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একদম শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছি। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছিলাম, আজ সেই একই বৈষম্যের শিকার হতে হলো আমাকে। ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীর জীবন ধ্বংসের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, একটি বিসিএস’র পেছনে একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের মূল্যবান কয়েকটি বছর লড়াই করতে হয়। প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করার পর চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেয়া সম্পূর্ণ অমানবিক। কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বা মামলা-মোকদ্দমা না থাকার পরও ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন’-এর দোহাই দিয়ে আর কতো প্রার্থীর জীবন নষ্ট করা হবে।