কথিত কবিরাজ হাবিবুল্লাহ’র কাগজ পরীক্ষার ফাঁদ

কথিত কবিরাজ হাবিবুল্লাহ’র কাগজ পরীক্ষার ফাঁদ

ফন্ট সাইজ:

একটি সাদা কাগজ আর একটি সাদা কলমের কারসাজিতেই চলছে কবিরাজি চিকিৎসার নামে প্রতারণা। মানবজমিনের অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয় এমন একটি ঘটনা। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার লামুক্তা গ্রামে হাবিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কবিরাজ দাবি করে দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অপ-চিকিৎসা। আর মানুষ অন্ধ বিশ্বাসের ওপর ভর করে প্রতারিত হচ্ছেন দিনের পর দিন। সরজমিন উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, তন্ত্রমন্ত্র-জাদু টোনা-জিন-পরী তাড়ানোর নামে গ্রামের সহজ সরল মানুষদের অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন কথিত এই কবিরাজ। একশ’ পাঁচ টাকা দিয়ে রোগ নির্ণয়ের নামে শুরুতে দেন কাগজ পরীক্ষা। পানিতে সাদা কাগজ ডুবিয়ে দিলেই তাতে ভেসে ওঠে কে কোন সমস্যায় আক্রান্ত। মূলত সাদা কাগজের কারসাজিতেই আকৃষ্ট হন লোকজন।

আর তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। তথ্যমতে জানা যায়, দোকান থেকে সাদা পাতলা কাগজ আর সাদা কালির চায়না কলম ক্রয় করে নেন। অতঃপর এই কলম আর কাগজ দিয়েই তৈরি করেন ফাঁদ। কাগজে পূর্ব থেকে সাদা কালির কলম দিয়ে আঁকাঝাঁকা করে নেন হাবিবুল্লাহ। পানিতে ভেজানোর পর লেখাগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। হাবিবুল্লাহ’র জাদুকরী ভেলকিতে লোকজন সরল বিশ্বাসে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। প্রতারণার শিকার আতুয়াজঙ্গল গ্রামের খাইরুল ইসলাম বলেন, লোকমারফত জানতে পারে কবিরাজের দ্বারস্থ হলে কাগজ পরীক্ষা দিয়ে বলেন, পাঁচটি কালো জাদুর তাবিজ করা হয়েছে। তাবিজ কাটতে হলে সাতশ’ টাকা ভিজিট দিয়ে তাবিজ নিতে হবে। পরে তাবিজ আনার পর দ্বিতীয়বার কবিরাজের কাছে গেলে বুঝতে পারেন প্রতারণার বিষয়টি। রোমানা নামে এক নারী জানান, সরল বিশ্বাসে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। হালুয়াঘাট পৌর শহরের আঁখি আক্তার বলেন, হাবিবুল্লাহ একজন প্রতারক। চিকিৎসা নিতে গেলে কাগজের পরীক্ষা দিয়ে রোগ নির্ণয় করে প্রতারণা করেন তিনি। একই এলাকার মুন্নী আক্তার নামে অপর আরেক ভুক্তভোগী জানান, চিকিৎসা নিতে গেলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন কবিরাজ।

হাবিবুল্লাহ’র ম্যাজিকের আসল রহস্য মূলত একটি সাদা কাগজ আর সাদা কালির একটি কলম। সাদা কাগজের উপর কলমের কারসাজিই মূলত রোগ নির্ণয়ের কৌশল। আর চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল মানুষরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, উস্তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে কোরআনের কালামের মাধ্যমে চিকিৎসা দেন তিনি। তবে ক্যামেরায় কথা বলতে প্রস্তাব দিলে উস্তাদের নিষেধ রয়েছে বলে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, চেয়ে টাকা নেই না, যে যা খুশি হয়ে দেয়, তাই নিই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান লস্কর বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে ন্যূনতম ভিত্তি নেই এসবের। কাগজ পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসার ধরন শুনে হতবাক হন এই চিকিৎসক। জানা যায়, হাবিবুল্লাহ’র নেপথ্যে রয়েছে একটি দালাল চক্র। যারা রোগী খোঁজ করে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। বিনিময়ে দালালির ভাতা পান দালালরা।