চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানে এই উদ্যোগ, সেই চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধিকে কমিটিতে রাখা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর গত সোমবার বিকালে কমিটি গঠন করা হয়। ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে কমিটির প্রধান এবং ইউজিসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী। কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত সচিব নিজেই।
চুয়েটে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পরামর্শ দেয়ার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সংকটের কেন্দ্রে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে কমিটিতে না রাখায় উদ্যোগটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২১শে সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত শুক্রবার অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। ওই সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ইউজিসি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু যে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত থেকে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু, সেই সভার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘চুয়েটের সমস্যা নিরসনে গঠিত কমিটিতে চুয়েটেরই কেউ নেই। এর থেকেও বড় প্রশ্ন হলো, যে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই সভারই বৈধতা কতোটুকু? কারণ, ওই সিন্ডিকেট সভাতেও চুয়েটের কেউ ছিলেন না। কমিটি গঠনের মধ্যদিয়ে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছাড়া সেই উদ্যোগ কতোটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
