অর্থপাচার মামলা

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন

ফন্ট সাইজ:

অর্থপাচারের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকার পক্ষে এ আবেদন করেন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে এ আবেদন জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও ডায়মন্ড অবৈধ চোরাকারবারের মাধ্যমে অর্জন করে মানিলন্ডারিং করার অভিযোগ রয়েছে। এসব স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে বা কোন উৎস থেকে পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বৈধ নথিপত্র সিআইডির অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুলশান থানার মামলা নম্বর ৩০, তারিখ ১৭ই নভেম্বর ২০২৫। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী, ২০১৫)-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
রিমান্ড আবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯শে অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ঢাকার বনানী থানা এলাকা থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে আটক করে। পরে ২০শে অক্টোবর ডিবির কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তার মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইডির স্মারক নম্বর সিআই/ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম/অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই/৮৭-২০২৪/৮৯৬, তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর ভিত্তিতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়।
সিআইডির অনুসন্ধান-সংক্রান্ত বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হয়। এ সময় বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে স্বর্ণবার, স্বর্ণালংকার, লুজ ডায়মন্ড, ডায়মন্ড ও অলংকারসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বর্ণ ও ডায়মন্ড সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের মোট মূল্য হিসেবে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকার একটি অঙ্কও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে সরবরাহ করা আবেদনের ওই অংশে অঙ্ক দুটির মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট নয়।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সিআইডি, ঢাকা। তার এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু হয় বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা এবং মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা নিরূপণের জন্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনটি সিআইডি ঢাকার ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, অর্গানাইজড ক্রাইমের এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল হাসান দাখিল করেন।