চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউপিতে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে সারের ডিলার নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেসার্স নুরুল হক স্টোরের স্বত্বাধিকারীরা ও চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুল হক (সাদু) মেম্বার। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আখতার নবীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
গত রোববার সন্ধ্যায় কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা মৌলভীবাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক সাদু এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুরুল হক স্টোরের স্বত্বাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন। নুরুল হক সাদুর দাবি, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগের জন্য গত ৩০শে আগস্ট মেসার্স নুরুল হক স্টোরের নামে আবেদন করেন তিনি। তার আবেদনের নম্বর ১৮৩। তার ভাষ্য, উপজেলা কৃষি অফিসের যাচাইয়ে নির্ধারিত এলাকায় গুদামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও তাকে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়নি। তার দাবি, বিপরীতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে গুদাম থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মেসার্স খাজা ট্রেডার্সকে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিসের যাচাই প্রতিবেদন, গুদামের অবস্থান সংক্রান্ত পরিদর্শন নথি বা নিয়োগের মূল্যায়নপত্র প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নুরুল হক সাদু অভিযোগ করেন, খাজা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয়ভাবে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
তার দাবি, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য আবেদন করা প্রতিষ্ঠানটির গুদাম ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। ওই এলাকার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না থাকলে প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে ডিলারশিপ দেয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নুরুল হক সাদুর অভিযোগ, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আখতার নবীর সহযোগিতায় এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মেসার্স খাজা ট্রেডার্সকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত ৭ই অক্টোবরের স্মারক নম্বর ১৭৮-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক সাদু আরও বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বাবা আবদুর রহিম মেম্বার স্বাধীনতার আগে থেকেই এলাকায় সার ব্যবসা করতেন। নুরুল হক নিজেও ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উপজেলা পর্যায়ে সার ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। তার অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। এরপর থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে সার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
নুরুল হকের দাবি, নতুন ডিলার নিয়োগের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ও তার ব্যক্তিগত সহকারী আখতার নবী তাকে একাধিকবার ডিলারশিপ দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আবেদন উপেক্ষা করে খাজা ট্রেডার্সকে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা যাচাই এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে এমপি’র পিএস আখতার নবীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি এখন ব্যস্ত আছে পরে কথা বলবে জানিয়ে কল কেটে দেন।
