প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে রংপুরে ৩০শে নভেম্বর হরতালের ডাক

ফন্ট সাইজ:

বিদ্যুৎ বিভাগের সীমাহীন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতিসহ প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রংপুরবাসী। রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি ও বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ৩০শে নভেম্বর রংপুর নগরীতে অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা জজ আদালত চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. পলাশ কান্তি নাগ এ হরতালের ডাক দেন।

তিনি বলেন, গণবিরোধী প্রি-পেইড মিটার বাতিল, পূর্বের ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ, বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ৩০শে নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচি পালনে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পলাশ কান্তি নাগ বলেন, সরকার কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের পরিবর্তে দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি করছে। গ্রাহকদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও নেসকো কর্তৃপক্ষ জবরদস্তিমূলক কায়দায় নগরীর বাসা-বাড়িতে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ অব্যাহত রেখেছে। এই প্রি-পেইড মিটারের ফলে গ্রাহকদের ডিজিটাল মিটারের তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ-তিনগুণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়কার ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রি-পেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে কার্যত আধুনিক প্রযুক্তির প্রি-পেইড মিটারের নামে জনগণকে শোষণ করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— সংগঠনের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, এবিএম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু, মাহফুজ হোসেন, মেহেদী হাসান তরুন, মাহবুব আলম, সানজিদা আক্তারসহ অন্যরা।