সরাইলে মাহফিলে যাওয়ার পথে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় বাহার মিয়া (২২) ও নাঈম মিয়া (২৪) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে নাঈমকে গত রোববার ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা ও বাহারকে শনিবার সরাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার আশ্বাস দিয়ে ও পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় সংবাদকর্মী আসামিদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টি চারিদিকে চাউর হচ্ছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মাঠে নেমেছিল কয়েকজন সমাজপতিও। ওসি বলছেন, একটি প্রতারক চক্র কাজ শুরু করেছিল। গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ই অক্টোবর বুধবার রাতে উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিল চলছিল। ওয়াজ শোনার জন্য রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে মাহফিলে যাচ্ছিল। পূর্ব থেকেই অসৎ উদ্দেশ্যে ওত পেতে বসেছিল একটি গ্রুপ। কিছু দূর যাওয়ার পর চার ব্যক্তি ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
নিজেকে রক্ষার জন্য কিশোরী অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই চার ব্যক্তির সঙ্গে পথিমধ্যে আরও দু’জন যুক্ত হয়। সেখানে ওই কিশোরীকে তিন ব্যক্তি পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এতে করে কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই কিশোরীকে অটোরিকশায় করে তাদের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে সটকে পড়ে ধর্ষকরা। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে কিশোরীর কান্নার শব্দে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। মায়ের কাছে কিশোরী পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
কিশোরীকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরবর্তীতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার কিশোরীর মা বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের বলেন, বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিতে একটি প্রতারক চক্র কাজ শুরু করছিল। এজন্যই মামলা করতে পরিবারের লোকজনের বিলম্ব হয়েছে। গুরুত্ব সহকারে মামলার তদন্ত কাজ চলছে। জড়িত কেউই রেহাই পাবে না।
