মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করে থাকে— তবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের যত কাছের লোকই হোক না কেন— এ দেশে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
গতকাল সকাল ১১টায় ঝিনাইদহ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ২৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবনের শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, প্রচলিত আইনে এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে কোনো আইনি বাধা নেই। শিক্ষকরা অতীতে যেভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, এবারো নিয়ম অনুযায়ী সেভাবেই অংশ নিতে পারবেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়েও সেরা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে। সময় হলেই দেশের মানুষ এর সুফল দেখতে পাবেন। ঝিনাইদহে বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধী দল জামায়াতের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়মের খবর বা তথ্য আমরা পাইনি। ডিলার নিয়োগ ও সার বরাদ্দে সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত বিরোধী দলের প্রধান কাজই হলো সরকারের সবকিছুর বিরোধিতা করা।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন আইনমন্ত্রী। সেখানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি, তীব্র জনবল সংকট নিরসন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ফেরাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনাসহ সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
