বেনাপোল বন্দরে ফ্লেবারের চালান জব্দ, ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি

ফন্ট সাইজ:

যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ফ্লেবারের চালানের সঙ্গে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রোববার রাতে এই পণ্য চালানটি জব্দ করা হয়। যাতে ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ভারত থেকে ২৫ প্যাকেজ (৫০০ কেজি) বাটার ফ্লেবার আমদানি করে। আমদানিকৃত পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ। পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণা অনুযায়ী সঠিক পাওয়া যায়। পরে পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী পণ্যের শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পণ্য চালানটি খালাসের সময় আমদানিকৃত ঘোষিত ফ্লেবারের সঙ্গে ঘোষণাবহির্ভূত মালামাল খালাস নিচ্ছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ। এমন গোপন সংবাদে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের গোয়েন্দা সংস্থা উল্লিখিত কাভার্ড ভ্যানটি বন্দরের ১৪ নম্বর শেডের সামনে থেকে আটক করে।

পরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, গাড়িচালক ও বন্দরের শ্রমিকদের উপস্থিতিতে কাভার্ড ভ্যানের তালা খুলে ৬৭টি প্যাকেজ মালামাল দেখতে পান। এর মধ্যে ২৫টি প্লাস্টিক জারে ৫০০ কেজি ফ্লেবার, ২৫ কার্টনে ১ লাখ ৯৪ হাজার পিস ডিসপোভান সিরিঞ্জ, ২ কার্টনে ১১০.৭৭ কেজি ইমিটেশন, শাড়ি, ওড়নাসহ ৮টি ড্রামে ২০০ কেজি পাউডার পাওয়া যায়। এর আগে ঘোষণাবহির্ভূত মালামালগুলো বন্দরের ১২নং শেড থেকে কাভার্ড ভ্যানে লোড করা হয়। এই চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অপরাধে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিল বলে জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, গাপন সংবাদে বন্দরের ১৪ নম্বর শেড থেকে পণ্য চালানটি আটক করা হয়। যেখানে ৫৫ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে।