আট মাসে জ্বালানি খাতে ৪১২ কোটি ডলার ভর্তুকি: তিতুমীর

আট মাসে জ্বালানি খাতে ৪১২ কোটি ডলার ভর্তুকি: তিতুমীর

ফন্ট সাইজ:

গত আট মাসে জ্বালানি খাতে সরকার ৪১২ কোটি ডলার ভর্তুকি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, অতীত সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর আশা করছে বর্তমান সরকার। সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আয়োজিত ইএসজি ড্যাশবোর্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০২৯ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণ করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ উত্তরণের জন্য আগের সরকার কোনো প্রস্তুতি নেয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিন বছর সময় রাখা হয়েছে।

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে সক্ষম ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭৫ সালের সংকটের তুলনা করে তিনি বলেন, সে সময়ের মতো এখনো অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। জুলাই সনদ প্রণীত হলেও শিক্ষিত ব্যক্তিরা কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে অগ্রগতি সম্ভব হবে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে ৬০ শতাংশ দারিদ্র্য নিরসন করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের সদস্যদেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমর্থন আদায়ে বাংলাদেশ কাজ করছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করে তিনি এ ক্ষেত্রে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও অন্যান্য দেশের সহযোগিতা কামনা করেন। রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে যথাযথ প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।