ফ্রান্সে সহিংসতা ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় মেয়রদের আংশিক কারফিউ জারির ক্ষমতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। জনসাধারণ ও দোকানপাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সোমবার প্যারিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান শুরু হচ্ছে। এতে ২০০ তদন্তকারী কর্মকর্তা অংশ নেবেন। সপ্তাহান্তে সংঘটিত সহিংসতার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করবেন তারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
সরকার কীভাবে আরও সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পরে দেশটির আইনমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন বলেও জানান লেকর্নু। লেকর্নু জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় মেয়ররা কারফিউ জারি করতে পারবেন। একই সঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ দেবে সরকার। তবে এই অর্থের জোগান আসবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে।
তিনি বলেন, সম্পত্তির ক্ষতিসাধনকারীদের যেন সেই ক্ষতির মূল্য পরিশোধ করতে হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন প্রণয়ন করা হবে। দাঙ্গা ও লুটপাটের কারণে যারা কাজে যেতে পারছেন না, তাদের সহায়তায় আংশিক বেকারত্ব তহবিল চালুর ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাতে যত দ্রুত সম্ভব বিমার অর্থ পান, তা নিশ্চিত করতে সরকার বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানান তিনি। সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন লেকর্নু।
তিনি বলেন, অত্যন্ত উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বে একটি আন্দোলন চলছে। তারা সত্যিকার অর্থেই আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তারা। এ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে রাজনৈতিক বৈঠক এবং সমাবেশগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর উদ্দেশ্য হলো, গণতান্ত্রিক কার্যক্রম যেন নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাঙচুরকারী, চোর ও দুর্বৃত্তদের নির্দেশে আমরা চলব না, তাদের দ্বারা শাসিতও হব না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ওপর তার আস্থা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে লেকর্নু বলেন, তিনি মন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখেন। রোববার সন্ধ্যায় পদত্যাগের প্রস্তাব দেয়া নুনেজ তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। লেকর্নু বলেন, তার ওপর আমার আস্থা না থাকলে তিনি এই মুহূর্তে আমার পাশে থাকতেন না। শেষে তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে দৃঢ় ও শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।
