ভারতের দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে চায় জাপান’—যা আজ ১৯ অক্টোবর (সোমবার) প্রকাশ করেছে মানবজমিন অনলাইন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরকে সামনে রেখে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও শিল্প উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে টোকিও। চট্টগ্রামের মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে যুক্ত করে একটি ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ গড়ে তুলতে চায় দেশটি। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোও এ পরিকল্পনার অংশ।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দুকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তার মতে, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, মাতারবাড়ী বন্দরের বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কেবল বাংলাদেশের একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়। এটি বঙ্গোপসাগর, বঙ্গোপসাগরীয় অর্থনীতি, চীন–ভারত প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে জাপান মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার একটি ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ গড়ার পরিকল্পনা করছে মর্মে যে প্রতিবেদন ভারতীয় মিডিয়া প্রকাশ করেছে, তা নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
তাছাড়া, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তার বক্তব্য—যেখানে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার একটি ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ (industrial value chain) গড়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে—তা এই বন্দরকে ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন হলো: বাংলাদেশ কি নিজের বন্দর ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে নিজের জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে, নাকি বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার একটি দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে? এসব প্রশ্ন পর্যালোচনার গুরুত্ব রাখে।
জাপানের পরিকল্পনার মূল কথা হলো—মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা। জাপানি কূটনীতিকদের ভাষায়, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রাখে। জাপান এই পরিকল্পনার মডেল হিসেবে দেখছে ব্যাংকক-কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম উন্নয়ন করিডরকে, যা জাপানের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে। এই মডেলের সাফল্য জাপানকে মাতারবাড়ীতে প্রয়োগ করতে উৎসাহিত করছে।
কিন্তু জাপানের এই উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক নয়। এটি তার ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ (ফিওআইপি/FOIP) কৌশলের অংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়া স্পষ্ট বলেছেন, জাপান উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং “বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে সংযুক্ত করার ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছে”। এই কৌশলের লক্ষ্য স্পষ্ট: চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই/BRI) বিকল্প একটি স্বচ্ছ, টেকসই ও উচ্চমানের সংযোগ কাঠামো গড়ে তোলা—যদিও জাপান বা ভারত কেউই প্রকাশ্যে চীনের নাম নেয় না ।
জাপানের জন্য মাতারবাড়ীর আকর্ষণ দ্বিমুখী। প্রথমত, এটি চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরিতে সহায়ক। দ্বিতীয়ত, এটি জাপানের বেসরকারি খাতের জন্য নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। জাপান ইতিমধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতু, সড়ক নেটওয়ার্ক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করছে । মাতারবাড়ী সেই বিনিয়োগের একটি সমুদ্রমুখী সম্প্রসারণ।
ভারতের হিসাব এক্ষেত্রে বহুমাত্রিক। ভারতকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘জীবনরেখা’ ও কৌশলগত গভীরতার সন্ধান করতে হচ্ছে। ফলে ভারতের জন্য মাতারবাড়ীর মূল্য দ্বিগুণ—অর্থনৈতিক ও কৌশলগত।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে মূল ভারত থেকে সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডর দিয়ে যুক্ত। এই করিডরের ওপর নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করতে পারলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহন তুলনামূলকভাবে সহজ ও স্বল্পব্যয়ী হবে ।
কিন্তু এই সুবিধার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি সংবেদনশীল বাস্তবতা। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের সরাসরি সংযোগ মানে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও বন্দরব্যবস্থা ভারতের আঞ্চলিক কৌশলের আরও গভীরে প্রবেশ করবে। ফেনী নদীর মৈত্রী সেতু চালু হলে ত্রিপুরা থেকে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ীতে পণ্য পরিবহনের পথ খুলতে পারে; তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি ।
ভারতের জন্য মাতারবাড়ী কেবল বাণিজ্যের নয়: ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির একটি সম্ভাব্য সমুদ্রমুখী প্রবেশদ্বার। জাপান-ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট ফোরাম (২০১৭) এই কৌশলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে । মাতারবাড়ী সেই ফোরামের সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য অবকাঠামো প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।
এমতাবস্থায় চীনের দৃষ্টি মালাক্কা প্রণালীর বিকল্প ও ‘মুক্তা’ শৃঙ্খলের প্রতিযোগিতার দিকে প্রসারিত। কারণ, চীনের জন্য বঙ্গোপসাগর কেবল বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ নয়: মালাক্কা প্রণালীর নির্ভরতা কমানোর একটি কৌশলগত অঞ্চল।
চীনের মূল পরিকল্পনা হলো চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (সিএমইসি/CMEC)—যা ইউনান প্রদেশকে কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করবে। কিয়াউকপিউ চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালী এড়ানোর একটি সরাসরি পথ, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে আসা তেল ইউনানে পৌঁছাতে পারে । এই করিডরের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস পাইপলাইন, রেলসংযোগ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এই প্রেক্ষাপটে মাতারবাড়ীতে জাপান-ভারতের প্রভাব বাড়লে বেইজিং তা নিজের কৌশলগত পরিবেশের পরিবর্তন হিসেবে দেখতে পারে। কারণ মাতারবাড়ী যদি সফল হয়, তবে বঙ্গোপসাগরে একটি জাপান-ভারত-মার্কিন সমর্থিত বিকল্প নোড তৈরি হবে—যা চীনের কিয়াউকপিউ-নির্ভর কৌশলের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
তবে আঞ্চলিক পরিসরে চীনের অবস্থান মোটেও দুর্বল নয়। চীনের কিয়াউকপিউ বন্দর ইতিমধ্যে বঙ্গোপসাগরের একটি ‘পিভট নোড’ হিসেবে পরিচিত । চীনের সামুদ্রিক উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, সামরিক সরবরাহকারী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী। ২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে মোংলা বন্দর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সমতা বা ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ‘কার পক্ষে’ না গিয়ে ‘কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব, সে পন্থা খুঁজে বের করা জরুরি। কেননা, মাতারবাড়ী বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এবং কৌশলগত বিষয়, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশের জন্য মাতারবাড়ীর প্রকৃত সুবিধা তখনই আসবে, যখন এটি কেবল বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং একটি জাতীয় সামুদ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হবে। সেই কৌশলে থাকতে
হবে পাঁচটি অপরিহার্য উপাদান:
প্রথমত, বন্দরের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ। ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, কাস্টমস, পোর্ট কমিউনিকেশন এবং সংকটকালীন নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে থাকতে হবে। জাপান বা ভারতের অর্থায়ন মানেই নিয়ন্ত্রণ নয়—এই পার্থক্য স্পষ্ট রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বহুমুখী অংশীদারত্ব। জাপান, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এমনভাবে গড়তে হবে, যাতে কোনো এক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি না হয়। বাংলাদেশের সাংবিধানিক পররাষ্ট্রনীতি—“সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি শত্রুতা নয়”—এখানেই পরীক্ষিত ও পরিলক্ষিত হবে।
তৃতীয়ত, ট্রানজিটের স্পষ্ট শর্ত। ভারত বা অন্য কোনো দেশকে ট্রানজিট দিলে তার বিনিময়ে বাংলাদেশের রাজস্ব, নিরাপত্তা শর্ত, পরিবেশগত দায় ও রাজনৈতিক সীমা আইনগতভাবে নির্ধারিত হতে হবে। শর্তহীন ট্রানজিট মানে সার্বভৌমত্বের অংশ হারানো।
চতুর্থত, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বন্দর নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নজরদারি, সাইবার সুরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কারণ বড় শক্তিগুলো বন্দরকে কেবল কনটেইনার খালাসের স্থান হিসেবে দেখে না; তারা দেখে নৌ-সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং সংকটকালে সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনা।
পঞ্চমত, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা প্রশ্ন। মাতারবাড়ীর কৌশলগত মূল্য বাড়বে, কিন্তু মিয়ানমারের অস্থিরতা, রাখাইন সংঘাত ও রোহিঙ্গা সংকট থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারবে না। আরাকান আর্মি বর্তমানে রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কিয়াউকপিউর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই অস্থিরতা বঙ্গোপসাগরের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে—আর বঙ্গোপসাগরের স্থিতিশীলতা ছাড়া মাতারবাড়ীর পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জিত হবে না। ফলে বাংলাদেশকে এসব বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও শিক্ষাবিদকেও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সরব করতে হবে।
মাতারবাড়ী বাংলাদেশের জন্য একটি ভূরাজনৈতিক মোচড় হলেও সেটি অতিক্রম করে সম্ভাব্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে বাংলাদেশকে। যে পরীক্ষা হলো বাংলাদেশকে নিজের ভূগোলকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার সক্ষমতা। জাপানের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা যেতে পারে; ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগও দরকারি; চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কও বজায় রাখতে হবে। কিন্তু প্রতিটি সম্পর্কের মূল শর্ত হতে হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য।
মাতারবাড়ী সফল হবে তখনই, যখন এটি কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক বা রাজনৈতিক সম্প্রসারণের মঞ্চ না হয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তি, সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের ভিত্তি হয়ে উঠবে। বঙ্গোপসাগরের এই নতুন সমীকরণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ভৌগোলিক অবস্থান; আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, সেই অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া ব্যবহার করার ঝুঁকি, যা থেকে বাংলাদেশকে কৌশলী পন্থায় জাতীয় স্বার্থের আলোকে অগ্রসর হতে হবে।
লেখক: প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)।
