গণপরিবহনে হেডফোন ছাড়া গান শোনা ঠেকাতে লড়ছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী

গণপরিবহনে হেডফোন ছাড়া গান শোনা ঠেকাতে লড়ছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

গণপরিবহনে উচ্চ শব্দে গান বাজানো বা ভিডিও দেখার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী একটি নতুন প্রচারণার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, ট্রেনের কামরায় যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। সোমবার তিনি এই প্রচারণার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

‘শব্দ নয়, ক্যারেজ ভাগ করুন’ বা ‘শেয়ার দ্য ক্যারেজ, নট দ্য নয়েজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই প্রচারণায় যাত্রীদের হেডফোন ব্যবহার করতে, স্পিকারফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে এবং চুপচাপ ভিডিও দেখতে উৎসাহিত করা হবে। বাস সার্ভিস আইনের অধীনে নতুন ক্ষমতাবলে স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষগুলো এখন বাসে বিরক্তিকর আচরণের বিরুদ্ধে নিজেদের নিয়ম তৈরি ও প্রয়োগ করতে পারবে। সরকার এমন নির্দেশিকা জারি করতে যাচ্ছে যেখানে বলা হবে, যাত্রীরা বিরক্তিকর আচরণ বন্ধ করার অনুরোধ অমান্য করলে তাদের ১০০ পাউণ্ড (প্রায় ১৬ হাজার ৪৪২ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

বাসচালকদের এই নিয়মগুলো প্রয়োগ করতে হবে না। এ দায়িত্ব পরিবহন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যদের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে। ট্রেনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ আচরণের জন্য ট্রেন পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর আগে থেকেই এক হাজার পাউণ্ড (প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করার ক্ষমতা রয়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও গত গ্রীষ্মে যাত্রীদের হেডফোন পরাসহ ‘ভদ্রভাবে যাতায়াত’ করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রচারণা শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি ইউগভ-এর একটি জরিপে দেখা গেছে যে, বাসে ও ট্রেনে জোরে গান বাজানো মানুষের অন্যতম প্রধান বিরক্তির কারণ। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বাসে এবং ট্রেনে উচ্চ শব্দে গান বাজানো ব্যক্তিদের জন্য এক হাজার পাউণ্ড জরিমানাকে সমর্থন করেছেন।

তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, এটি পরিবহন কর্মীদের সুরক্ষায় তেমন কোনো কাজে আসবে না। ‘ইউনাইট’ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম জানিয়েছেন, সরকারের প্রস্তাবটি সদিচ্ছাপ্রণোদিত হলেও, বাসকর্মীরা প্রতিদিন যে চ্যালেঞ্জ ও সহিংসতার মুখোমুখি হন, তা মোকাবিলায় এই জরিমানার ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল।