দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটানোই আমাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার রাতে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ভালো কাজ করার মুখ্য বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা। ইচ্ছা এবং ইচ্ছা। আমি বিশ্বাস করি আমার এই প্রিয় সংগঠনের প্রত্যেকটি সদস্যের সেই প্রবল ইচ্ছাটি রয়েছে। যে ইচ্ছার মাধ্যমে সে একটি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে সক্ষম। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক আগামী দিনে যতদিন পর্যন্ত আমরা সুস্থ থাকব, সবল থাকব ততদিন পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য হোক একজন মানুষের মুখে হাসি ফুটানো। সেই প্রত্যাশা রেখে এবং আবারও আমার এই প্রিয় সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের শুভকামনা করছি।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ‘একটি চেষ্টা, একটি উদ্যোগ’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি মানুষের জন্য কিছু করা এবং আমরা সেটি করেছি আমরা সেটি পেরেছি অর্থাৎ আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি আমরা যদি একসাথে থাকি তাহলে এই যে একটি উদ্যোগ একটু চেষ্টা এনে দিবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা… এটাকে বাস্তবায়ন করা একেবারেই সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে এটা বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে থাকি, একসাথে কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব, মানুষের জন্য আমরা কাজ করতে পারব।এই মুহূর্তে আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি বাংলাদেশে আমাদের সকলের দেশের জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করা উচিত। এজন্য কাজ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, একটি কথা আমি বলে আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেটি হচ্ছে ইচ্ছা অর্থাৎ আমি একটি কাজ করতে চাই …ইচ্ছাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা দেখেছি পৃথিবীতে এই দেশে বা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছে কিন্তু তারা তাদের সেই বিত্ত বা তাদের যে রিসোর্স থাকে সেটিকে শুধুমাত্র তারা নিজেদের স্বার্থেই বা নিজেদের কাজেই ব্যবহার করে। কিন্তু তাদের বিত্ত বা সম্পদের একটি সামান্য অংশও যদি তারা এই সমাজের জন্য এই মানুষের জন্য ব্যবহার করে, সমাজের জীবজন্তু প্রকৃতি জন্য যদি ব্যবহার করে, তাহলেও অনেকের কাছে অনেক শান্তি পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত, আপোশহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদে সিক্ত ও জনাব তারেক রহমানের উদ্যোগে অনুপ্রেরণায় স্থাপিত বাংলাদেশের মানবিকতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, গত ২৭ বছর মানবসেবার ছোট চারা গাছ থেকে আজ এই প্রতিষ্ঠান মহিরুহ হওয়ার পথে। মানুষের জন্য মানুষ, একটি চেষ্টা, একটি উদ্যোগ এই সংকল্পে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এগিয়ে যাচ্ছে সব সময়। বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতি মানুষের পাশে মানুষের কাছে থাকছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি আশা করি, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বিভিন্ন মানবসেবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে ‘আইডিয়া ফেস্ট’ এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আইডিয়া ফেস্ট হচ্ছে, তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ বৈষম্যহী ও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার একটি বিশেষ উদোাগ।
‘আইডিয়া ফেস্ট’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান ও রানার্স আপকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী এবং সার্টিফিকেট দেন জুবাইদা রহমান।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ-১২ এর দল নেতা মারুফ মোস্তফা মুনীম, মোহামেনুল ইসলাম ও মো. রিয়াদ মিয়া এবং রানার্স আপ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-২ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-১।
রানার্স আপ- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ-১ এর দল নেতা আবদুল আশরাফিক চৌধুরী, জারির মাহমুদ ও এসএম ইয়াসিন সৌরভ। ফাস্ট রানার্স আপ দল নেতা নাজমুল ইসলাম নাফি, মুনতাসির আবেদীন রিফাত ও শাহরিয়ার রাফাত।
এবার সেমি ফাইনাল পর্বে ছিলো মোট ১৮টি টিম। বিজ্ঞ বিচারকের রায়ে ৭টি টিম ফাইনাল পর্বে অংশ নেয়। এই ৭টি টিমের মধ্যে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম গ্রুপ ১২। আইডিয়া ফেস্টের ফাইনাল পর্ব হং ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনে নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও আইডিয়া ফেস্টের আহ্বায়ক সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী, সমন্বয়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
