প্যারিস থেকে দিল্লি—ভৌগোলিক দূরত্ব কয়েক হাজার কিলোমিটার। ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোও আলাদা। কিন্তু দুই দেশের রাজপথের দিকে তাকালে একটি প্রশ্ন সামনে আসে: সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন জমতে জমতে বিস্ফোরিত হয়, তখন রাষ্ট্রের করণীয় কী? প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠস্বর শোনা, নাকি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা? প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে।
রাজপথে মানুষের ঢল। হাতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড, মুখে ক্ষোভের স্লোগান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই বিক্ষোভের বিস্তার। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা আন্দোলনের মূল দাবিগুলোকে আড়াল করে দেয়।
১৭ অক্টোবর শনিবার ফ্রান্সজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ও আন্দোলনের আয়োজকদের হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় ৮ লাখ। প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। শনিবার রাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ফরাসি প্রজাতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ঘটনাটি শুধু ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সীমা, রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা। প্যারিস থেকে দিল্লি, দুই শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা আলাদা হলেও এই প্রশ্নগুলো উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের প্রকাশিত বার্তার মূল বক্তব্য ছিল পরিষ্কার। তার ফরাসি বক্তব্যের অর্থ: ‘আমাদের প্রজাতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। যারা ভাঙচুর করেছে, সরকারি প্রশাসনিক দপ্তর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে, এমনকি আমাদের টাউন হলগুলো লুট করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।’
আরও বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি জাতির সমর্থন জানাচ্ছেন।
তার বক্তব্যের শেষাংশেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে চাওয়া মানুষদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের একটি মৌলিক ভিত্তি রয়েছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু অন্যের সম্পদ লুট করার অধিকার নেই। সরকারের সমালোচনা করা যায়, সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা যায়, এমনকি সরকারের পদত্যাগও দাবি করা যায়। কিন্তু এসব দাবির নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া, দোকান লুট করা কিংবা সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করা কোনোভাবেই বৈধ প্রতিবাদ হতে পারে না।
তবে রাষ্ট্রের দায়িত্বও এখানেই শেষ নয়। সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের ক্ষোভের কারণগুলো সমাধান করা জরুরি। কারণ, পুলিশ দিয়ে একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট কিংবা সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষ কেবল পুলিশি ব্যবস্থায় দূর করা যায় না।
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল প্যারিসের বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে। শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে মানুষের ক্ষোভ।
এই পরিস্থিতি বুঝতে হলে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সামাজিক অসন্তোষের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলন দেখিয়েছিল, অর্থনৈতিক নীতির প্রভাব যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন ক্ষোভ কত দ্রুত জাতীয় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
এবারের আন্দোলনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। অর্থনীতি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যতই যুক্তিসংগত হোক, তার প্রভাব যদি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, সন্তানদের শিক্ষা কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে, তাহলে সেই নীতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
কিন্তু এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষকে সহিংসতার জন্য দায়ী করা যায় না। অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সহিংস কর্মকাণ্ডের দায় পুরো আন্দোলনের ওপর চাপিয়ে দিলে প্রতিবাদের মূল কারণগুলো আড়াল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সূত্র: রয়টার্স ও এপি, ১৭ অক্টোবর ২০২৬।
প্যারিসের সাম্প্রতিক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিকস ও অর্থ স্থানান্তরসেবার অন্তত আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানে লুটপাটের খবর দেওয়া হয়েছে।
এমন ঘটনা সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। প্রবাসে একটি ছোট ব্যবসা দাঁড় করাতে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়। অনেক উদ্যোক্তা নিজেদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেন, ব্যাংকঋণ নেন কিংবা পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসা এক রাতের সহিংসতায় ধ্বংস হয়ে গেলে ক্ষতি শুধু দোকানের মালিকের হয় না; এর প্রভাব পড়ে তাঁর পরিবার, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনেও।
একটি মোবাইল ফোনের দোকান হয়তো কারও কাছে সামান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রবাসী পরিবারের কাছে সেটিই হতে পারে জীবিকার প্রধান অবলম্বন। একইভাবে অর্থ স্থানান্তরসেবার দোকানগুলো অনেক অভিবাসীর দেশে অর্থ পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তাই রাজনৈতিক ক্ষোভের নামে এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হলে তার শিকার হন এমন মানুষ, যাদের অনেকেরই আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
এখানে ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা স্পষ্ট: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিচারের আওতায় আনা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের অভিযোগ গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কার্যকর সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
দিল্লির সঙ্গে মিল কোথায়? প্যারিস থেকে দিল্লির প্রসঙ্গ আসে রাষ্ট্রের জবাবদিহির প্রশ্নে।
ভারতের রাজধানী দিল্লি বিভিন্ন সময়ে কৃষক আন্দোলন, দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদ, নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন এবং নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব আন্দোলনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক নয়। ফ্রান্সের বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির প্রতিটি আন্দোলনকে সরাসরি তুলনা করাও ঠিক হবে না।
তবু একটি সাধারণ প্রশ্ন দুই ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক: সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও দাবি রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিয়ে শুনছে?
দিল্লির কৃষক আন্দোলনে জীবিকা, কৃষিপণ্যের মূল্য ও কৃষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছিল। নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনে সংবিধান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্য, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।
প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভও একইভাবে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আন্দোলনের দাবি এবং আইনগত পরিস্থিতির পার্থক্য অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।
মূল শিক্ষা হলো, মানুষের অভিযোগকে কেবল বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখলে সমস্যার সমাধান হয় না। আবার গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলে সহিংসতা ও লুটপাটকে বৈধতা দেওয়াও চলে না।
ফ্রান্সের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তরুণেরা যখন শিক্ষার পরিবেশ, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তখন সেটিকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।
রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, তরুণদের মধ্যে হতাশা কেন বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই কেন, সরকারি সেবার মান নিয়ে অভিযোগ কেন, কিংবা মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান কেন বাড়ছে, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতা থেকে দূরে রাখা, গুজব ও উসকানি প্রতিরোধ করা এবং জনসম্পদ রক্ষায় ভূমিকা রাখা তাদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ।
সহিংসতা অনেক সময় আন্দোলনের মূল দাবিকে আড়াল করে দেয়। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যে আলোচনা হওয়ার কথা, তা তখন দোকান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরে চাপা পড়ে যায়। এর ফলে আন্দোলনের জনসমর্থন দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ম্যাক্রনের বার্তায় অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার রয়েছে। এটি আইনের শাসনের স্বাভাবিক দাবি। তবে আইন প্রয়োগ হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, নিরপেক্ষভাবে এবং যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
যারা দোকান লুট করেছেন, সরকারি ভবনে আগুন দিয়েছেন কিংবা মানুষের সম্পদ ধ্বংস করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের অধিকার রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ফ্রান্সে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্রের কারণে আহত হওয়ার খবর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। ফলে শুধু বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ড নয়, পুলিশের পদক্ষেপও আইন ও প্রয়োজনীয়তার মানদণ্ডে পর্যালোচনা করা জরুরি।
প্যারিসের রাজপথ আজ ফ্রান্সের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছে: অর্থনৈতিক অসন্তোষ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, আর প্রতিবাদের নামে সৃষ্ট নৈরাজ্য কীভাবে ঠেকানো হবে?
দিল্লির অভিজ্ঞতাও মনে করিয়ে দেয়, মানুষের দাবি উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। কিন্তু সেই অসন্তোষের সমাধান সহিংসতা কিংবা অন্যের সম্পদ ধ্বংসের মধ্যে নেই।
প্রতিবাদ গণতন্ত্রের শক্তি। লুটপাট সেই শক্তির প্রকাশ নয়। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রয়োজন, কিন্তু সেই কর্তৃত্বের সঙ্গে জবাবদিহিও থাকতে হবে। নাগরিকের অধিকার রক্ষা করতে হবে, আবার তার জীবন, জীবিকা ও সম্পদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
প্যারিস থেকে দিল্লি দূরত্ব মানচিত্রে। কিন্তু মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে দুই শহরের অভিজ্ঞতা আমাদের একই শিক্ষা দেয়: রাষ্ট্রকে মানুষের কথা শুনতে হবে, আর প্রতিবাদকারীদেরও বুঝতে হবে, ন্যায্য দাবির শক্তি কখনো লুটপাট ও নৈরাজ্যের মধ্যে নিহিত নয়।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট
e-mail: [email protected]
