বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ এবং উন্নয়ন অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার মধ্যে স্বল্প আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, ঋণের উচ্চ সুদহার ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে উন্নত দেশগুলোর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না নিম্ন আয়ের দেশগুলো। শনিবার ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভার সমাপনীতে এসব কথা বলেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় আশাবাদের পাশাপাশি নানা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও উঠে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, এআইয়ের সম্ভাবনা এবং এশিয়ার অর্থনৈতিক গতিশীলতা আশার সঞ্চার করছে।
তবে মূল্যস্ফীতি, বিপুল ঋণের বোঝা, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। আইএমএফ প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সুদহার বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের দেশগুলোকে এখন মোট রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলো এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করে সুফল পেলেও অর্থের সংকটে দরিদ্র দেশগুলো পিছিয়ে পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর নিম্নআয়ের দেশগুলো। জ্বালানির বাড়তি ব্যয় উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলছে।
আইএমএফের প্রধান নীতিনির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান ও সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান সতর্ক করে বলেন, সংঘাত ও বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়বে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপরও জোর দেন আল-জাদান।
জর্জিয়েভা আরও বলেন, ইরাকের অনুরোধ করা ঋণ কর্মসূচিতে জোরালো সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আইএমএফ। লেবাননের সঙ্গেও ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিছু বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ঋণের চাপ কমানো এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আইএমএফ প্রধান।
