প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে, সেটা রক্ষা করতে হবে। শনিবার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এর আগে প্রেসিডেন্ট পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অবলোকন করেন।
প্রেসিডেন্টের প্রেস উইং জানায়, সভায় প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনাদের এখানে একটা স্লোগান আছে যে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা সেই সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই কথা আমাদের সবসময় জোরের সঙ্গে বলতে হবে যে, এই সংবিধান আমাকে যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার অবশ্যই আমি রক্ষা করবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটা অভূতপূর্ব নিদর্শনের দেশ। শুধু আজকে নয়, যুগান্তর ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে বাস করছে। আমাদের সাহিত্য, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিল্প সবকিছুর মধ্যে এই অভূতপূর্ব সম্মিলন ও সম্প্রীতি নিদর্শন আপনারা সবসময় পাবেন।
এ সময় এই সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে যারা বিভিন্নভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে সুবিধা নিতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই এই দেশে আমরা এক সঙ্গেই বেড়ে উঠেছি। ১৯৭১-এ যেমন আমরা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলেছিলাম, আমরা সেখানেই স্থির আছি এবং সেটাকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত পর্যন্ত রয়েছি।
প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয়। এদেশের মানুষ কখনোই কোনো বিষয়ে চরম জায়গায় যেতে চায় না। আমাদের সেই ধারাটাকে সবচেয়ে অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের এই সম্প্রীতিটাকে বিনষ্ট করার জন্য অনেক চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে এই কথা দেশে-বিদেশে বিভিন্নভাবে বড় করে প্রচার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তবে বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রমাণ করেছেন যে তারা নিজ নিজ ধর্ম সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটা ট্রানজিশন পার হচ্ছি। একটা ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কাজ শুরু করেছি। ধৈর্যের সঙ্গে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা সম্পন্ন করার আশা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
পূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনাদের সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা। এ সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
