নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

ফন্ট সাইজ:

নিষিদ্ধ বেহুন্দি ও ভাসান জাল দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে ওই
আদেশের ভিত্তিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরার সুযোগ আর থাকছে না। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণসহ সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে সংশ্লিষ্টদের। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমানে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও হাইকোর্টের ওই আদেশ ব্যবহার করে কিছু জেলে মাছ ধরছিলেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে গিয়ে কোস্ট গার্ড বাধার মুখে পড়লে বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের নজরে আনে। দু’দিন আগে বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়। তিনি বলেন, শনিবার চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল পিটিশন করা হয়। পরে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দেন। শুনানিতে তার সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী অংশ নেন। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ৬ই জুলাইয়ের আদেশ স্থগিত করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরার ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছিলেন। স্থগিতাদেশের ফলে সেই সুবিধা আর থাকছে না। এখন সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে।

হাইকোর্টের রিটের বিষয়ে তিনি বলেন, মাছ ধরার বিভিন্ন ধরনের ফিশিং ভেসেলের লাইসেন্সধারী ১৫ জন ব্যক্তি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মাছ ধরতে গেলে কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের হয়রানি করে। মাছ, জাল ও ট্রলার আটক করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা এবং সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা চেয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। গত ৬ই জুলাই হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে ৬ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় লাইসেন্সধারী ট্রলার ও ভেসেল দিয়ে ভাসান জাল ও বেহুন্দি জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়। দেশে তৈরি ট্রল ড্র, ডেরিক ও উইংস ব্যবহার করে মাছ ধরার ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা কার্যকর ছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার ১৫ জন ব্যক্তি মিলে রিটটি দায়ের করেছিলেন। এ ধরনের আদেশের সাধারণ প্রভাবের কারণে অন্যরাও এর সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, শুনানির সময় নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রসঙ্গ এসেছে। রিটকারীদের বক্তব্য, বাংলাদেশে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতের অংশে একই সময়ে মাছ ধরা চলে। মাছ কোনো দেশের সীমানা বোঝে না। ফলে বাংলাদেশে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও অন্য দেশের অংশে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যৌক্তিক মনে হয়েছে। সরকারকে পরামর্শ দেয়া হবে, যেন মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অন্য দেশ যাতে একতরফাভাবে সুবিধা নিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশটি জুলাই মাসে হলেও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দুই দিন আগে বিষয়টি জানতে পারে। কোস্ট গার্ড নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাইকোর্টের আদেশ দেখিয়ে মাছ ধরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রের পক্ষে আপিল বিভাগে যাওয়া ছাড়া আইনগতভাবে আর কোনো উপায় ছিল না। সেই অনুযায়ী চেম্বার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়া গেছে।

ব্রিফিং এ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুর রউফ বলেন, রিটকারীরা বেহুন্দি ও ভাসান জাল দিয়ে মাছ ধরার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। এসব জাল স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয় এবং ট্রলার মডিফাই করে এগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে বেহুন্দি জাল সারা বছরের জন্য নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে গেজেট প্রজ্ঞাপন রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২০ সাল থেকে ইলিশ আহরণের জন্য ভাসান জাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিষয় গোপন করে রিটকারীরা হাইকোর্ট থেকে রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ নিয়েছিলেন।