বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে চোট এখন এক আতঙ্কের নাম। প্রায় প্রতিটি সিরিজে দলের কেউ না কেউ চোটে ভোগেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চোটের কারণে টেস্ট ও ত্রিদেশীয় লীগে খেলতে পারেননি পেসার নাহিদ রানা। এবার একই কারণে দেশীয় সিরিজ শুরুর দিন দল থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেলেন অধিনায়ক লিটন দাস। শুধু তাই নয়, জ্বরের কারণে প্রথম ম্যাচ খেলা হয়নি দলের স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাদের না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের ফিজিও বায়েজীদুল ইসলাম খান। জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় হ্যামস্ট্রিং ও কাফ পেশির চোটে পড়েছিলেন লিটন।
পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে দলে ফিরলেও গতকাল ফের হিপ জয়েন্টের চোটে পড়েন তিনি। তার সিরিজ থেকে ছিটকে পড়ার বিষয়ে ফিজিও বায়েজীদুল এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘গতকাল ডান হিপ জয়েন্টে অস্বস্তির কথা জানিয়েছিল লিটন। এরপর এমআরআই করানো হলে রিপোর্টে কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। আজ ফিটনেস টেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে, তবে নির্ধারিত বেঞ্চমার্ক পূরণ করতে পারেনি। ফলে এই সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে না।’ অধিনায়ককে হারিয়ে দলে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। লিটনের বদলে প্রথম ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। টসের সময় হৃদয় জানান চোটের কারণে লিটন খেলছেন না। মিরাজও দলে নেই। চোটের কারণে বাদ পড়লেও লিটনকে জাতীয় সংগীতের সময় ডাগআউটে কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একাদশে না থাকা আলিস ও তানভীরও মাঠে ছিলেন। দলের একাদশে ছিলেন তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফ হাসান।
লিটনের ইনজুরি নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘অধিনায়ক ম্যাচের আগের দিন থেকে কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগিছিলেন। গতকাল সকালে তাকে একটি ফিটনেস টেস্ট দিতে হয়েছে সেখানে তিনি উৎরাতে পারেননি। যেকারণে তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে প্রথম ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তার ইনজুরির অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পুরো সিরিজ থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ গত ছয় মাসে দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চোট ও অসুস্থতায় পড়েছেন। নাহিদ রানার সাইড স্ট্রেইন চোট ছিল। শরীফুল ইসলাম জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে কাফ মাসল ও হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েন। তানজিম হাসান সাকিব একই সিরিজের আগে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অনুশীলনের সময় ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে যান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ক্যাচ নিতে গিয়ে বুকে আঘাত পান সাদমান ইসলাম। নাজমুল হোসেন শান্ত অক্টোবরের শুরুতে এশিয়ান গেমসের মাঝপথে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। মিরাজ টানা তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল আপডেট অনুযায়ী চোটের কারণে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে বারবার। লিটনের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং ও নেতৃত্ব দুই বিভাগেই বদল এসেছে। হৃদয়ের সামনে এখন দলকে সামলানোর কাজ। মিরাজ দলে নেই। তাকে পরের ম্যাচে পাওয়া যাবে কি না তা নির্ভর করছে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির ওপর। লিটনকে পুরো সিরিজে না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। মিরাজের পরবর্তী ম্যাচে খেলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানা যায়নি। ফলে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে মিরাজকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হবে দলকে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের মাঝে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে দল। বিসিবির মেডিকেল দল খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চোটের কারণে দলের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সামনের সিরিজ গুলোতে দলের পারফরম্যান্স নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের সুস্থতার ওপর।
