দেশের ঘরোয়া ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে ১০ দল নিয়ে সুপার লীগ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (বিএসপি)। প্রস্তাবিত এই লীগে ছয়টি দল থাকবে জেলা বা বিভাগভিত্তিক, বাকি চারটি বা পাঁচটি দল আসতে পারে বাংলাদেশ ফুটবল লীগের (বিএফএল) শীর্ষস্থানীয় দলগুলো থেকে। লীগটি পুরোপুরি বেসরকারি অর্থায়নে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রাথমিক সমঝোতার পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। গতকাল বাফুফের সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান তুষার এবং বিএসপির নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজির আলম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক প্রাথমিক পর্যায়ের। এটি নন-বাইন্ডিং, নন-এক্সক্লুসিভ ও নন-অব্লিগেটরি। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে লীগ আয়োজনের বিষয়ে বাফুফে কোনো বাধ্যবাধকতায় পড়ছে না। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রস্তাব দিতে পারবে। এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, দেশের ঘরোয়া ফুটবল প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই। এ বাস্তবতায় নতুন বিনিয়োগ এনে লীগের মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত লীগের কাঠামো, দলগুলোর বিনিয়োগ, পরিচালনা পদ্ধতি এবং আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিএসপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর ইতিহাস, সমর্থকগোষ্ঠী ও পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জেলা ও বিভাগভিত্তিক নতুন দল গঠন করা হবে। উদ্যোক্তারা এটিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগের পরিবর্তে একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ হিসেবে দেখতে চান। এতে পুরোনো দলগুলোর ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হবে। বিএসপির নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজির আলম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি অর্থায়নের লীগ আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই করতে চাই। ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর সক্ষমতা, সমর্থকগোষ্ঠী ও ইতিহাসকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি আরও জানান, এ উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন ইউরোপভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করে দেশের ফুটবলের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। প্রাথমিক সমঝোতার পর ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরি করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী সময়ে আট থেকে দশ
বছরের জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত লীগ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নিয়মকানুন এবং বাফুফের অনুমোদন মানতে হবে। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবে। এরপর তা নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।
নির্বাহী কমিটির অনুমোদন পেলেই চূড়ান্ত চুক্তির পথে এগোনো সম্ভব হবে। বাফুফের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবের পর লীগ পরিচালনা, দলগুলোর বিনিয়োগ,
ম্যাচের সংখ্যা, প্রতিযোগিতার সময়সীমা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা কোনো কারণে প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে দেশের ঘরোয়া লীগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য চূড়ান্ত চুক্তির সময় আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার কাউন্সিলর মুশতাক আহমেদ বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশের মানুষ ও কমিউনিটিকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে এই উদ্যোগ। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত সুপার লীগ ঘিরে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, প্রাথমিক সমঝোতার পর বিএসপি কতটা বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও কার্যকর কাঠামো নিয়ে হাজির হতে পারে।
