পানামায় গত সপ্তাহে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি পরাঘাত বা আফটার শক রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বিভিন্ন পরিবর্তনের খবর পাওয়ার পর সেগুলোর কারণ অনুসন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা। স্থানীয় গণমাধ্যম শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। লা প্রেসা পত্রিকাকে পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেন, তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর পরাঘাত এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। লুক জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পের ফলে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তিনি বলেন, ভূকম্পনসংক্রান্ত রেকর্ডে দেখা গেছে, পরাঘাতগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।
লুক আরও জানান, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূত্বকের ফাটলব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেগুলো ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না-ও হতে পারে। পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তনের খবর খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় সমুদ্রের নিচে থাকা পাথর উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সমুদ্রের পানি সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে। লুক ব্যাখ্যা করেন, ভূত্বকের ফাটল বরাবর নড়াচড়ার কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে অথবা নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ভূভাগের উপরিভাগের আকৃতিও পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি বলেন, ভূতত্ত্ববিদরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করবেন। ফল্টের নড়াচড়ার কারণে এসব পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণ করাই তাদের উদ্দেশ্য।
পানির রং পরিবর্তনের খবরও তদন্ত করছেন গবেষকরা। কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। লুকের ধারণা, ভূমিকম্পের সময় ভূগর্ভস্থ পানি এমন কিছু খনিজের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে, যেগুলো ভূমিকম্পের ফলে মুক্ত হয়েছে। তবে পানির রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানতে রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর তাদের দ্বীপটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। লুক বলেন, ভূতত্ত্ববিদরা পরীক্ষা করে দেখবেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল বিস্তৃত হয়েছে কি না এবং সেগুলো সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তা ভূত্বকের ফাটল বরাবর নড়াচড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। এদিকে পানামার ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র প্রয়োজন হবে। আর দেশজুড়ে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে লাগতে পারে ৭০০টি সেন্সর।
