রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

ভারত ও চীনের জন্য বড় স্বস্তির খবর। রাশিয়ার পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে আপাতত এসব নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

শুক্রবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, আমি এতদ্বারা গ্রাহাম আইনে উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগ স্থগিত করছি। এ মুহূর্তে এ ধরনের ছাড় দেয়া যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমি কংগ্রেসকে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছি। তবে এ নির্দেশের মাধ্যমে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট শুল্ক কার্যকরের প্রক্রিয়াই কেবল স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে চাইলে ট্রাম্প এসব শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।

ট্রাম্প যে আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার নাম ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। ইউক্রেনের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে ও গ্রাহামের নামে আইনটির নামকরণ করা হয়েছিল। আইনটিতে ট্রাম্পকে ৩০ দিনের মধ্যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার বহু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং রাশিয়ার জ্বালানিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ক্ষেত্রে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছিল। শুল্ক আরোপের জন্য নির্ধারিত এক মাসের সময়সীমা ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।

আইনটিতে কী ছিল?

আইনটির লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান কমিয়ে দেয়া। এ জন্য রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং মস্কোর সামরিক অভিযানকে সহায়তা করা বিদেশি সংস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছেল। এ আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দেয়া হয়েছেল। এর উদ্দেশ্য রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর এসব দেশের নির্ভরতা কমানো। এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দেশটির সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিধান ছিল।

আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ খুলে যেত। এতে ভারত ও চীনসহ অন্তত ১০টি দেশ শুল্কের হুমকির মুখে পড়ত। ট্রাম্প ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর আগে থেকেই কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হতো। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগে ওই শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে নতুন শুল্কের হার ঘোষণা না করা পর্যন্ত ভারতের রপ্তানির ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা পড়ত, তা নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না।