তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরলেই কি ফিরবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা?

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরলেই কি ফিরবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা?

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনার কেন্দ্রে এখনও রয়েছে একটি বিষয়, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হতে পারে? এই প্রশ্ন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার জন্ম, রাজনৈতিক সংঘাত এবং দীর্ঘ আইনি বিতর্ক। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেই কি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে? নাকি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন আরও বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার?
নির্বাচন কেবল ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া নয়, জনগণের সম্মতি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক পদ্ধতি এটি। ভোটার যদি মনে করেন তাঁর ভোটের ফলাফল নির্ধারণে প্রশাসনিক প্রভাব, রাজনৈতিক পক্ষপাত বা অনিয়ম কাজ করছে, তাহলে নির্বাচনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়। আবার কেবল সরকার নির্দলীয় হলেই যে নির্বাচন অবাধ হবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।
১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক আন্দোলনের পর ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সাংবিধানিক রূপ পায়। এই ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকট এবং ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে সরকার দায়িত্ব নেয়, সেটিও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তার কার্যক্রম ও মেয়াদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্দলীয় সরকারের ধারণা থাকলেও তার ক্ষমতার সীমা, জবাবদিহি ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন নিশ্চিত করা জরুরি।
২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আগের রায় পুনর্বিবেচনা করে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত দেন। আদালত স্পষ্ট করেন, এই বিধান কার্যকর হবে ভবিষ্যতে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্ধারিত সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে; চলমান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় তা পূর্বপ্রযোজ্যভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। ২০২৬ সালের ৯ জুলাই আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথও বহাল রাখেন। ফলে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যবস্থাটির সাংবিধানিক অবস্থান আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়, bdnews24.com, ৯ জুলাই ২০২৬.

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান। সেই মতামতের ভিত্তিতে বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পথ অনুসরণ করা হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে গঠিত হয়নি; সেটি ছিল ২০২৪ সালের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গঠিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। তাই দুটি ব্যবস্থাকে একই নামে চিহ্নিত করলে আইনি পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে যায়।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের; সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ ও প্রশাসনিক সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করেছে। এই পার্থক্য মনে রাখা জরুরি: নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এক জিনিস নয়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হয় সংবিধান, Representation of the People Order, 1972 বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের ভিত্তিতে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত বিধান দেয়। ১১৯ অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বসহ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি নির্ধারিত হয়েছে। ১২৩ অনুচ্ছেদ সাধারণ নির্বাচন এবং সংসদের আসন শূন্য হলে উপনির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ১২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে সংসদকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়। সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আইন
আইনে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব থাকলেও বাস্তবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। ফলে কমিশন কাগজে স্বাধীন থাকলেই যথেষ্ট নয়; তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষমতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বাস্তব সামর্থ্যও থাকতে হবে।
গণতন্ত্রে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা থাকা জরুরি। কিন্তু একটি দল গঠন করা, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়া এবং নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নেওয়া তিনটি আলাদা বিষয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০এ থেকে ৯০আই ধারায় রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। ৯০বি ধারায় নিবন্ধনের জন্য কয়েকটি বিকল্প শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অন্তত একটি আসন পাওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আসনগুলোতে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ অর্জন করা, অথবা নির্ধারিত সাংগঠনিক কাঠামো, জেলা পর্যায়ের কার্যালয় এবং উপজেলা বা মহানগর থানাভিত্তিক সদস্যসংখ্যার শর্ত পূরণ করা। সাংগঠনিক শর্তের ক্ষেত্রে আইনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও কমিটি, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কার্যালয় এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মহানগর থানায় প্রতি ইউনিটে ন্যূনতম ২০০ ভোটার সদস্যের কথা রয়েছে। সূত্র: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২, ধারা ৯০বি
এই নিয়মগুলোর উদ্দেশ্য হতে পারে প্রকৃত সাংগঠনিক ভিত্তিসম্পন্ন দল চিহ্নিত করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নতুন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে দেশজুড়ে এত দ্রুত সংগঠন গড়ে তোলা কতটা বাস্তবসম্মত? বিশেষত, নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক উদ্যোগ, স্থানীয় নাগরিক আন্দোলন কিংবা সীমিত সম্পদ নিয়ে গড়ে ওঠা দলগুলোর জন্য নিবন্ধনপ্রক্রিয়া যেন অযৌক্তিক বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখানে সংস্কারের একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে প্রাথমিক নিবন্ধন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক শর্ত পূরণের সুযোগ, অনলাইন আবেদন, প্রকাশ্য যাচাইপ্রক্রিয়া এবং প্রত্যাখ্যাত আবেদনের বিরুদ্ধে কার্যকর আপিলের ব্যবস্থা। তবে এসব পরিবর্তন আইন সংশোধনের মাধ্যমেই করতে হবে; নির্বাচন কমিশন এককভাবে আইনের শর্ত উপেক্ষা করতে পারে না।
রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকেও সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সাধারণত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দিতে হয়। তবে আগে কোনো সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে থাকলে এই তালিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে ব্যতিক্রম রয়েছে। সূত্র: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মনোনয়নসংক্রান্ত বিধান
এই শর্তের পক্ষে যুক্তি হলো, প্রার্থীর ন্যূনতম জনসমর্থন আছে কি না, তা যাচাই করা। বিপরীতে, স্বাক্ষর সংগ্রহ, ভোটার তালিকা যাচাই এবং নির্ধারিত সময়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নতুন প্রার্থীর জন্য কঠিন হতে পারে। তাই প্রশ্নটি শর্ত থাকবে কি থাকবে না, শুধু তা নয়; বরং যাচাই কীভাবে হবে, প্রত্যাখ্যানের কারণ কতটা স্বচ্ছ হবে এবং ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না।

ফ্রান্সে রাজনৈতিক দল গঠন এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয় দুটি আলাদা। সেখানে নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের মতো আগে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দলীয় নিবন্ধন নিয়ে তারপর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাধারণ ব্যবস্থা নেই। রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করা যায়, তবে দলের অর্থায়ন, অনুদান, হিসাবরক্ষণ ও নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন মানতে হয়। কোনো দল নির্বাচনে প্রার্থী দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে হয়। ফ্রান্সের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য ফরাসি নাগরিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়াতে পারেন। সাধারণভাবে তাঁকে ফরাসি নাগরিক হতে হবে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্ধারিত বয়স ও ভোটার-যোগ্যতা পূরণ করতে হবে, আইনে নির্ধারিত কোনো অযোগ্যতার আওতায় থাকা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য রাষ্ট্রপতি
নির্বাচনের মতো ৫০০ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির সমর্থন সংগ্রহের শর্ত নেই। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অন্তত ৫০০ জন যোগ্য নির্বাচিত প্রতিনিধির আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রয়োজন হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মূল যুক্তি হলো, যে সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেই সরকারের হাতে নির্বাচন পরিচালনার পুরো পরিবেশ নির্ধারণের ক্ষমতা না রাখা। এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আস্থা বাড়তে পারে। কিন্তু সরকার নির্দলীয় হলেই নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরপেক্ষ হয়ে যাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অন্তত পাঁচটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর ক্ষমতা; প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা; সব প্রার্থীর প্রচার ও সভা করার সমান সুযোগ; নির্বাচনী অর্থায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা; এবং ভোট গণনা, ফল প্রকাশ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা। এর সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধও যুক্ত। এখন বিশ্বব্যাপী চালু ডিজিটাল ভোটিং সিস্টেম বা বায়োমেট্রিক্স এর মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এছাড়া একজন নাগরিক এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য সহজ নিয়ম তৈরি করা। নির্দিষ্ট কিছু দলের বাইরে অন্যদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে যে বাধা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারকে সহজ, বৈষম্যহীন ও সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে, যাতে অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতা নয়, জনগণের সমর্থন ও জনআকাঙক্ষাই প্রার্থিতার মূল ভিত্তি হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা একটি সাংবিধানিক প্রশ্নের সমাধান করতে পারে, কিন্তু নির্বাচনব্যবস্থার সব সমস্যার সমাধান নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর স্বাধীনতা ছাড়া কোনো ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে পারবে না। এবং নতুন ধারার প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে এই সংকটের বৈপ্লবিক উত্তরণ।