আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ইরানে পরমাণু বোমা ব্যবহার নিয়ে যা জানালেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্প সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন। তবে দেশটির ওপর ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার সম্ভাবনা অস্বীকার করেননি তিনি। নিউজমেক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বা কৌশলগত কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমি পরমাণু বোমা ব্যবহার করবো না। আমাদের সেটার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরাশক্তি। তবে তিনি বৃহৎ একটি বোমা হামলার ইঙ্গিত করে বলেন, জিবিইউ-৪৩/বি বা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়; এটি কেবল একটি অত্যন্ত বিশালাকার প্রচলিত বোমা।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকটাই দূর করেছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই এই যুদ্ধের পরবর্তী এবং সম্ভবত আরও বিধ্বংসী পর্ব শুরু হতে পারে। ট্রাম্প আভাস দিয়েছেন, তেহরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স পর্বতের গ্রানাইট পাথরের নিচে লুকানো স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো সম্ভব নয়। কারণ ইরানের হাতে এই অস্ত্র এলে তারা সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যবহার করবে বলে তার বিশ্বাস। তবে তিনি জানান, খুব শিগগিরই শক্তি প্রয়োগ বা কূটনীতির মাধ্যমে এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে এবং তেলের দামও কমে আসবে। ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, না, আমি তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

যুদ্ধের শুরুতে তিনি স্থলসেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দিলেও সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের পাহাড়ি ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীর জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট নামের এই বোমাটিতে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কেজি (সাড়ে ৮ টন) উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে। প্রায় চারটি গাড়ির সমান ওজনের এই বোমার মোট ওজন ৯ হাজার ৮০০ কেজি (প্রায় ১০ টন) এবং এর দৈর্ঘ্য ৩০ ফুটেরও বেশি। এটি এতটাই বিশাল যেকোনো স্টিলথ বোমারু বিমানে এটি বহন করা যায় না; লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমানের মাধ্যমে এটি ফেলতে হয়।

মাটির কয়েক মিটার উপরে এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার সমস্ত পাকা স্থাপনা ও ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে এটি। মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, এই বোমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট মাশরুম ক্লাউড বা ধোঁয়ার মেঘ ৩২ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়। ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার জানান, ভূ-পৃষ্ঠের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। তবে পর্বতের গভীরে লুকানো পারমাণবিক বাঙ্কারে এটি কতোটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাছাড়া ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে ভারী পণ্যবাহী কার্গো বিমান নিয়ে প্রবেশ করাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে পরমাণু বোমা নাকচ করলেও ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখায় ধারণা করা হচ্ছে, ইরান জুড়ে মার্কিন বাহিনী নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, নতুন করে কোনো বড় হামলা হলে তারা পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও ডিজিটাল অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালাবে।