ট্রাম্পের ব্যর্থতার বলির পাঁঠা কি জেলেনস্কি?

ট্রাম্পের ব্যর্থতার বলির পাঁঠা কি জেলেনস্কি?

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন কি না— এমন প্রশ্নই করা হয় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে। জবাবে কোনো উত্তর না দিয়ে রহস্যজনকভাবে চুপ করে হাসেন তিনি। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া দেখান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

স্কাই নিউজের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ট্রাম্প তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে বলির পাঁঠা (স্কেপগোট) বানাচ্ছে কি না। প্রশ্নটি শুনে জেলেনস্কি প্রায় ১৫ সেকেন্ড নীরব থাকেন। এরপর এক চিলতে মৃদু হেসে তিনি বলেন, এটাই আমার উত্তর। এরপরই তিনি সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।

এর আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে বোঝাপড়া করা বেশি কঠিন। এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, আমি কেবল ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষায় অনড় রয়েছি। রাশিয়া যতভাবেই আমাদের অধিকার হরণ করতে চাক না কেন, এটা স্পষ্ট যে আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুতিন শান্তি চান না, আলোচনার নামে কেবল কথার খেলা খেলছেন। ইইউ নেতাদের বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য ডিজেল চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে তা পুতিনকে যুদ্ধে আরও অর্থ জোগাতে সহায়তা করবে। এ ধরনের কোনো চুক্তি ইউক্রেনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

স্টারলিংকের গতি ও সামরিক সংকট

সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি স্বীকার করেন, ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা যায়নি। এতে ইউক্রেন আকাশ প্রতিরক্ষায় মারাত্মক সংকটে পড়েছে। জেলেনস্কি জানান, স্টারলিংক পুরোপুরি বন্ধ না করা হলেও গতিসীমা ৪০০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৭০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এর ফলে রাশিয়ার জেটচালিত শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমানে এই সক্ষমতা কিছুটা ফিরিয়ে আনা হলেও আগের গতিতে ফেরেনি। সংকট কাটাতে কিয়েভ ফ্রান্সসহ অন্যান্য বিকল্পের সঙ্গে কাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে জরুরি অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, আগামী বছর যুদ্ধের জন্য তাদের ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অস্ত্রের জন্য ইউরোপকে দিতে হবে অন্তত ৭ হাজার কোটি ইউরো। পর্যাপ্ত অর্থ পেলে ইউক্রেন ড্রোন উৎপাদন দুই থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে রাশিয়াকে পরাস্ত করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।