সিজেপির তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আরেক দফা আন্দোলন ঠেকাতে সরকার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশাধিকার দুদিনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সিজেপির দুেই নেতাকে যন্তর মন্তরে তেরঙ্গা ওড়ানোর অভিযোগে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে সমবেত হয়ে তেরঙ্গা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তেলাপোকা জনতা পার্টি(সিজেপি), বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠন এবং আম আদমি পর্টি। কংগ্রেসও এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে।
তবে এই কর্মসূচির আগে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। সেই মতো পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রস্তাবিত মিছিলকে সামনে রেখে দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ৬,০০০-এরও বেশি দিল্লি পুলিশ কর্মী, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি এবং একটি বর্ধিত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক মোতায়েন করা হয়েছে।
তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন যে, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলের প্রস্তাবিত 'লেহরা দো তিরঙ্গা' (তেরঙ্গা ওড়াও সমাবেশের আগে দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করতে পারে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তদন্তকারীরা তার ওপর নজর রাখছেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দীপকে বলেছেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য তিনি কারাগারে যেতেও প্রস্তুত।
কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট জরুরি নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। উৎসবের মরসুমে ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আদালতের বেঞ্চ বলেছে, “আমরা আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে।” একই সঙ্গে তারা বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন সাধারণ মানুষের কোনো অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করতে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় কনট প্লেস, রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, যন্তর মন্তর, পালিকা বাজার, নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন এবং লুটিয়েন্স দিল্লির অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিকেল ৫টার প্রস্তাবিত মিছিলের আগে অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
কনট প্লেস, প্যাটেল চক, আইটিও এবং সংসদ মার্গসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ এই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার একাধিক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সুরক্ষিত করছে, যাতে জনসাধারণের চলাচলে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে অন্যান্য জেলা থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার পুলিশ সদস্যকে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। এছাড়া, নয়াদিল্লি, পার্শ্ববর্তী জেলা, সীমান্ত এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২২০টি কোম্পানিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
এদিকে, সিজেপির প্রস্তাবিত ‘তেরঙ্গা কর্মসূচিকে সামনে রেখে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই পুলিশ সিজেপিকে শুক্রবার আজাদ ময়দানে তাদের ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) মণীশ কালওয়ানিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এই অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।