ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ

ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সেপ্টেম্বরে দেশটির বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ২.৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের (INSEE) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুলনাযোগ্য সূচকে ফ্রান্সের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই সূচকে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩.৪ শতাংশে, আগস্টে যা ছিল ২.৬ শতাংশ। এই হার ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

INSEE-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৩ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১৬.৭ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ১২.৬ শতাংশ। অর্থাৎ, টানা তিন মাস ধরে জ্বালানির বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়েছে।

জ্বালানির মধ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম এক বছরে ৩৬.২ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে ৪৪.১ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৫.৭ শতাংশ। একই সময়ে গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি দেশটির পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব দৈনন্দিন বাজারদর ও পরিবারের মাসিক বাজেটে পড়তে পারে। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে অন্যান্য পণ্যের দাম ঠিক কতটা বেড়েছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্যপণ্য ও পরিষেবার দামও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম বার্ষিক হিসাবে ১.৪ শতাংশ এবং পরিষেবার দাম ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এ দুই খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১.১ ও ১.৯ শতাংশ। অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্যের দাম এক বছরে ০.৩ শতাংশ কমেছে।

মাসিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের ভোক্তা মূল্যসূচক ০.৩ শতাংশ কমেছে। আগস্টে এই সূচক ০.৭ শতাংশ বেড়েছিল। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর আবাসন ও পরিবহনসহ কয়েকটি পরিষেবার মৌসুমি মূল্যহ্রাসের কারণে মাসিক সূচকে এই পতন দেখা গেছে। তবে মাসিক মূল্যসূচক কমলেও বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

ফ্রান্সের সরকারি পরিসংখ্যানে ব্যবহৃত ভোক্তা মূল্যসূচক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত মূল্যসূচকের মধ্যে হিসাবপদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার যথাক্রমে ৩.১ ও ৩.৪ শতাংশ হওয়া পরস্পরবিরোধী নয়।

নতুন পরিসংখ্যান ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তবে পরবর্তী মাসে মূল্যস্ফীতি কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ফ্রান্সের পরবর্তী প্রাথমিক মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬। ওই হিসাবে অক্টোবর মাসের মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।