৬৬ নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হয়রানি ও আটকের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মঙ্গলবার তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। একে পুলিশের “বিপজ্জনক প্রবণতা” হিসেবে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ,পুলিশই ঠিক করে দেয় কে সাংবাদিক আর কে নয়।
সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার সাংবাদিকরা মঙ্গলবার একটি মৌন মিছিল করেছেন। এই মিছিল থেকে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও আটকের নিন্দা জানানো হয়েছে।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করার সময় গত কয়েকদিনে কয়েক ডজন সাংবাদিককে পুলিশ আটক করেছে। দিল্লি পুলিশের হাতে আটক থাকাকালীন তাদের ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ তাদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সুযোগ দেয়নি এবং পরে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে।
বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় পুলিশ কীভাবে তাকে ও তার সহকর্মী অনমোল প্রীতমকে তুলে নিয়েছিল, সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিউজলন্ড্রির সাংবাদিক আস্থা বলেছেন, “একজন পুলিশ সদস্যের কে সাংবাদিক আর কে নয়, তা নির্ধারণ করা—আমার মনে হয় এটা সাংবাদিকতার জন্য সত্যিই বিপজ্জনক।”
আস্থা অভিযোগ করেছেন, আটক করার পর পুলিশ তাকে যে বাসে তুলেছিল, তার ভেতরে তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে। তিনি বাধা দিলে ও চিৎকার করলে লোকটি পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “এরপর তাকে আর বাসে দেখা যায়নি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, আটক করার যানবাহনের ভেতরে নারীদের নিরাপত্তা পুলিশ কীভাবে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে।
সাংবাদিকদের পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সঙ্গীতা বরুয়া পিশারোটি, যিনি “একটি গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের সাথে কী করা উচিত নয় তা নথিভুক্ত করার” একটি উদ্যোগ হিসেবে এই সভার আয়োজন করেছিলেন।
“রাষ্ট্র বা পুলিশ কীভাবে ঠিক করবে কে সাংবাদিক? এটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়— তিনি বলেন। মন্ত্রণালয়গুলোতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) কার্ড দেখাতে বলায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেছেন, এবার বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়েছিল।
