ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে বিক্ষোভ করার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডে’কে প্রতিরোধমূলকভাবে (প্রিভেনটিভ) আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গ, অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এরপর তাদের আটক করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
আটক তিন নেতাকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। এর আগে আরেকটি ঘটনায় আটক হওয়ার পর ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন তারা। এক বছরের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো ঘটনায় জড়াবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছিলেন। এবার তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ তাদের পুনরাবৃত্ত অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে।
সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, আজকের যন্তর মন্তর সংক্রান্ত ঘটনায় দিল্লি পুলিশ সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ, সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। রত্না সিং আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত ওই তিন নেতাকে তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সকালে তাদের এসসিএম আদালতে হাজির করার কথা। তিহার জেলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আশঙ্কাও রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। রাত ৩টায় একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাদেরকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আনা হয়। এসব বেআইনি পদক্ষেপ সত্ত্বেও তাদের মনোবল উঁচু রয়েছে।
এর আগে শনিবার দিল্লিতে আরেকটি বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর রাঙ্কা ও দাসও এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকায় স্বাক্ষর করেছিলেন। নির্বাচনি তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই তিন নেতাকে আটক করা হলো। ১১ই অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি নির্দেশ জারি করেন। এতে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেয়া হয়। পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলটির বক্তব্য, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নেয়া হলে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে।
