অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্যাংক অব আমেরিকাকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক। তাদের ওপর ১২১ কোটি ডলারেরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে যা প্রায় ১৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকারও বেশি। মঙ্গলবার ঘোষিত এই জরিমানা দেশটির ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম দণ্ড। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, বৃহৎ একটি ব্যাংক যখন অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং নিষেধাজ্ঞার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন এর পরিণতি কেবল তাদের নিজেদের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি সমগ্র মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধ অর্থায়নের বড় ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ একটি পরিষ্কার বার্তা দেয় যে সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) ১২০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার জরিমানা আরোপ করেছে। ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা চীনা মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অর্থায়নসহ জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকারমূলক ঝুঁকিগুলো প্রশমিত ও সময়মতো রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফিনসেন জানায়, ব্যাংকটি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও রিপোর্টিং এবং গ্রাহক যাচাই প্রক্রিয়ায় গুরুতর ঘাটতি রেখেছিল। এমনকি নিজেদের শনাক্তকরণ ও রিপোর্টিংয়ের বাধ্যবাধকতার একটি বড় অংশ তারা তৃতীয় পক্ষের কাছে আউটসোর্স করেছিল।
ফিনসেনের কাছে সময়মতো ৫০০ কোটি ডলারের বেশি (প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা। ব্যাংক অব আমেরিকা ৪৭৫টি বিষয় নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, নিরীক্ষা ও ওফ্যাকের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে জানায়, আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা আমাদের দায়িত্ব। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তোলা বিষয়গুলো পুরোপুরি সমাধানের জন্য তাদের দল কাজ করছে।
