ভোটের আগে জাপায় কি হচ্ছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২

ভোটের আগে জাপায় কি হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচনের আগমুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির সমর্থন নাটক জমে উঠেছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাতীয় পার্টির প্রার্থী বা দলটির সমর্থন নিয়ে শুরু হয়েছে কাড়াকাড়ি। সোমবার রাতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নির্দেশে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস মার্কা প্রতীকের রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দেয় জাতীয় পার্টি। নির্বাচনী এলাকার শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সমর্থন ব্যক্ত করেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী। এ সময় উপজেলার নেতারাও তার সঙ্গে ছিলেন। এরপর মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাতীয় পার্টির প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা তার ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিও বক্তব্যে ওই আসনের বিএনপি জোট প্রার্থীকে সমর্থন ব্যক্ত করেন। স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে না পারার অভিযোগ এনে গত রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এডভোকেট মৃধা। তিনি এই আসন থেকে এর আগে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ এর নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন নিয়ে মেয়ের জামাতার সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদে জড়ান। এডভোকেট মৃধার নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার একদিন পর ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস প্রতীকের রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দেয় জাতীয় পার্টি। সোমবার রাত ১০টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার বাসায় এজন্য এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নির্দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ সমর্থন দেয়া হয়েছে জানিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা মিথ্যা মামলা এবং হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ৫ই আগস্টের পর মব এবং জাতীয় পার্টির অফিসে বারবার অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর প্রথম প্রতিবাদ করেছেন রুমিন ফারহানা। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলে তিনি বলেছেন, রাজনীতি করা এ দেশের মানুষের অধিকার। কারও অধিকার হরণ করা যাবে না। তিনি এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। এ ছাড়া আশুগঞ্জ, সরাইল ও বিজয়নগরের সকল মানুষকে নিরাপদ, জুলুম-নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন এবং উন্নয়ন কাজ করতে পারবেন এই বিশ্বাস থেকে আমরা তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানাচ্ছি।

এরপরই মঙ্গলবার বিকালে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিও বক্তব্যে এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা সমর্থনের নতুন মত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অনিবার্য কারণবশত এক বিবৃতি দিয়ে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। পরবর্তীকালে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি আমার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করি, আমি কারও স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আমি কারও পক্ষে-বিপক্ষে নই, আমার অবস্থান স্পষ্ট। আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। পরবর্তীকালে লক্ষ্য করলাম সরাইল উপজেলা জাতীয় পার্টির একাংশের কতিপয় নেতাকর্মী একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমি নানাদিক থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। তাই আমার অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আমার বলা। আমি বলতে চাই যারা প্রচারণা চালিয়েছে তারা আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। তারা জেলা জাতীয় পার্টি এবং কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নির্দেশ গ্রহণ করেনি। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জাতীয় পার্টিও গণতান্ত্রিক দল। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার ভূমিকা স্পষ্ট করতে চাই। আমি মনে করি বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি উভয় দলই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ, উদার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। নীতি এবং আদর্শের দিক থেকে উভয় দলের মিল আছে। তাই বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থীকে ভোট দেয়া আমার দলের পক্ষে উচিত বলে মনে করি। আমি আরও বলতে চাই, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের জন্য যখন রাজপথে আন্দোলন চলছিল এবং নানা ধরনের প্রচেষ্টা চলছিল তখন বিএনপি’র ভূমিকা ছিল জাতীয় পার্টির পক্ষে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে তার মোবাইল ফোন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী বলেন, আমার এখন গুরুতরভাবে সন্দেহ হচ্ছে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারের ভয় বা অন্য কোনো ভীতির মুখে তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্য দেয়ার সময় আশপাশে দলের কেউ, এমনকি কোনো লোকজন, পরিবারের কেউ ছিল না। সে কোন অবস্থায় আছে বোধগম্য নয়। গোপন আঁতাতের কারণেও তিনি এরকম করতে পারেন। রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে দলের মহাসচিব শামীম পাটোয়ারী তাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন মোবাইলের সেই কল রেকর্ড সাংবাদিকদের শোনান ভাসানী।


সিকদার

৪ মাস আগে

চৃলিতেছে


সার্কাস ।

সিকদার

৪ মাস আগে

সার্কাস

মন্তব্য করুন