সানজি গ্রুপ অব কোম্পানির ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত পার্থ সারথী হালদারকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি জানায়, তিনি কোম্পানিটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পার্থ সারথী হালদারসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে কোম্পানির মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত খালি চেক ব্যবহার করে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তা কোম্পানির হিসাবে জমা না দেয়া এবং ব্যাংক ট্রান্সফার ও আরটিজিএস’র মাধ্যমে ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের মতো পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সফ্টওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হলেও ব্যাংক বিবরণী ও পার্টি লেজার পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট অর্থ কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গত ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভাটারা থানায় মামলা করা হয়।
সিআইডি’র তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ পার্থ সারথী হালদার তার ব্যক্তিগত ব্র্যাক ব্যাংক হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থের হিসাব সমন্বয়, সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি এবং এনআরবিসি ব্যাংকের দু’টি হিসাব ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি’র তথ্য অনুযায়ী, পার্থ সারথী হালদার এককভাবে বিভিন্ন তারিখে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও খালি চেক সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে চেকে নিজেদের পছন্দমতো প্রাপকের নাম বসিয়ে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে সর্বমোট ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সিআইডি আরও জানায়, এ ঘটনায় অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, একই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) এবং সৈয়দ আরব আলীকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি।
