ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু। তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত, সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
ওদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমা। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাতের তথ্য দিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। তিনি বলেন, সাক্ষাতে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা এবং ভূমি পুনরুদ্ধার কাজে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে নেদারল্যান্ডস সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাতে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বাংলাদেশে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা সমপ্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সাক্ষাতে মুক্ত বাণিজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে তার দেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার তথ্য দিয়ে উপ-প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ মনে করে, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চায়। এ সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় সাক্ষাতে।
সাক্ষাতে কৃষি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। এই খাতে দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা সমপ্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে তার সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।
সাক্ষাতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
