ভারতের রাজধানীতে প্রতিবাদ বন্ধ করার কৌশল হিসেবে সরকার যন্তর মন্তরকে শুধু নিষিদ্ধই করেনি, অন্য তিনটি নির্ধারিত জায়গায় প্রতিবাদ সভা করতে বিশাল অঙ্কের ভাড়া চালু করেছে। অথচ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের জন্য কোনো
ভাড়ার ব্যবস্থা ছিল না। তাই নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরেই প্রতিবাদ জানাতে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) সহ আহ্বায়ক সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং আরও ১২ জননেতা ও কর্মী তালাবন্ধ যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢুকে পড়েছিলেন। তারা সেখানে তেরঙা জাতীয় পতাকা তুলে ধরেছিলেন। অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ছুটে এসে আটক করেছে তাদের। তবে দলের অভিযোগ, জাফরপুর কালান থানায় আটক সিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না আইনজীবীদের। তাদের ফোনও কেড়ে নেয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে।
যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদস্থল হিসেবে গণ্য না করার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে পোস্ট করেছেন, “প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের অধিকার কেড়ে নেয়া যায় না।’’ সঙ্গে তিনি সিজেপি নেতাদের যন্তর মন্তর অভিযানের ভিডিও পোস্ট করেছেন। প্রতিবাদের ভিডিওটিতে দেখা গেছে, সিজেপি নেতা রাঙ্কা ও দাস এবং কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক হাতে পতাকা নিয়ে একটি গেট টপকে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করছেন। সেখানে মোতায়েন পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে দলটি স্লোগান দিতে থাকে। ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়ার সময় পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে ভীত, তা স্পষ্ট বোঝা যায় এই বিষয়টি থেকে যে তিনি যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করেছেন। তিনি মনে করেন, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান থেকে সরিয়ে দিলেই বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটবে না। এখন সারা দেশেই যন্তর মন্তরের মতো আরও অনেক বিক্ষোভ-কেন্দ্র গড়ে উঠবে, তিনি বলেছেন।
সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রকেরই অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে- রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এবার থেকে ওই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে। এ জন্য দিতে হবে মোটা অঙ্কের ভাড়া।
এদিকে সোমবারের সুপ্রিম কোর্ট অভিযান সফল হওয়ার পর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখার লক্ষ্যে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের জন্য মঙ্গলবার এক চা-চক্রের আয়োজন করেছিলেন। দিল্লির সুনেরি বাগ রোডের ৫ নম্বর বাড়িতে-যেটি এই কংগ্রেস সাংসদের বাসভবন-সেখানেই এই চা-চক্রটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে গান্ধী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রতিবাদ কর্মসূচি যাতে খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে, সেজন্য কংগ্রেস ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরের দলগুলোর সঙ্গেও এই ইস্যুতে হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেখানে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র কোনো উল্লেখ ছিল না।
তিনি লিখেছেন, ‘‘গণতন্ত্র রক্ষার এই গণ-আন্দোলনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ-এবং এই আন্দোলন অবিরাম চলতে থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমস্ত প্রতিবাদ আসলে একটাই। #ইউনিটি (ঐক্য)।’
চা-চক্র শেষে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে দুর্বল করা এবং ‘ভোট চুরি’ ও কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইডি, সিবিআই ও আয়কর বিভাগের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কব্জা করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে ‘আরও দশ ধাপ এগিয়ে গেছে। মহাত্মা গান্ধী, রামমনোহর লোহিয়া, ভগৎ সিং ও কর্পূরী ঠাকুরের আদর্শ ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে যাদব বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং এই লক্ষ্যে প্রয়োজনে আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
