আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আর সশরীরে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। নিরাপত্তা শঙ্কায় তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তার আংশিক জেরা সম্পন্ন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার জন্য আগামী ২৫শে অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালে তার আইনজীবী মোবাইল ফোনে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন বলে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর আগে, গতকাল সকালে প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম জানান, জিয়াউল আহসানকে এ পর্যন্ত প্রতিটি কার্যদিবসেই নিয়মিত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি জিয়াউল আহসানের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন করা হয়।
আবেদনে তিনি নিজের জীবননাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তার কারণে যে প্রিজনভ্যানে করে তাকে কারাগার থেকে আনা হয়, সেটিতে একা না এনে অন্যান্য আসামির সঙ্গে একই প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনার আর্জি জানান। এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান তুলে ধরে গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম জানান, তার নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার সঙ্গে প্রসিকিউশন একমত হলেও অন্যান্য আসামির সঙ্গে একই ভ্যানে আনার আবেদনে প্রসিকিউশন আপত্তি জানায়। কারণ, তিনি যে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছেন, সে ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে বা ঘটানো হলে তা অন্য বন্দিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আসামিপক্ষ যেহেতু নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে, তাই ট্রাইব্যুনাল আইন ও প্রচলিত আইনের আলোকে তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগারে রেখেই অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সিং বা ভার্চ্যুয়ালি হাজির করার প্রার্থনা জানায় প্রসিকিউশন।
এর আগে করোনাকালীন সময়েও বহু আসামি, সাক্ষী ও বিচারক ভার্চ্যুয়ালি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এবং কারাগারে এ-সংক্রান্ত পর্যাপ্ত কারিগরি ব্যবস্থা রয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে জিয়াউল আহসানকে আর ট্রাইব্যুনালে সশরীরে না এনে কারাগার থেকেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারিক কার্যক্রমে উপস্থিত রেখে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
