ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ল ৩০০ বাড়ি, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

এল নিনোর তাণ্ডব

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ল ৩০০ বাড়ি, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

ফন্ট সাইজ:

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ৩০০ বাড়ি পুড়ে গেছে। এল নিনোর প্রভাবে তীব্র হওয়া এ আগুন থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন অন্তত এক হাজার মানুষ। মঙ্গলবার দেশটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
দেশটির স্থানীয় কর্মকর্তা রিজা হারদেভিদ জানান, শনিবার বাংকা বেলিতুং প্রদেশের দক্ষিণ বাংকা অঞ্চলের একটি গ্রামের দিকে আগুন এগিয়ে আসতে দেখেন বাসিন্দারা। আগুন নেভাতে তাঁরা নিজেরাই বহনযোগ্য পানির পাম্প ব্যবহার করেন। প্রথমে তাঁদের ধারণা হয়েছিল, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু ওই এলাকা ছিল পিট মাটি বা জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ জলাভূমি। মাটির নিচে আগুন জ্বলতে থাকায় বিপদ কাটেনি।
রিজা বলেন, ‘তাঁরা ভেবেছিলেন আগুন নিভে গেছে। কিন্তু মাটির নিচে আগুন জ্বলছিল। পরে বাতাসের দিক বদলে যায় এবং দ্রুত আগুন জনবসতির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।’

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগুন থেকে বাঁচতে প্রায় এক হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন। আগুনে বাড়িঘর হারানো ৫৫ বছর বয়সী লেনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি আর নেই। কিছুই অবশিষ্ট নেই। শুধু নিজের জীবন বাঁচাতে পেরেছি, সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে এসেছি। আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম, কিছু সঙ্গে নেওয়ার সময়ও পাইনি।’
আরেক বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হারিয়ানতি জানান, প্রবল বাতাস আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। কাঠ দিয়ে তৈরি বাড়িগুলো দ্রুত আগুনের গ্রাসে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের জীবন বাঁচাতে দৌড় দিই। আমার কোনো জিনিসই রক্ষা পায়নি। গায়ে যে কাপড় ছিল, শুধু সেটুকুই সঙ্গে আছে।’
রিজা জানান, গ্রামটি আগে সংরক্ষিত এলাকার পিট জলাভূমির ওপর গড়ে উঠেছিল। গত বছর ওই জমি আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করা হয়।

এল নিনোর কারণে ভয়াবহ দাবানল
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই দাবানল দেখা দেয়। তবে এ বছর এল নিনো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে আগুন আরও তীব্র হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত চার দশকে তুলনাযোগ্য রেকর্ড রাখা শুরুর পর এবার অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব।
বিশেষজ্ঞরা দাবানলের বিস্তারের পেছনে বনভূমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলার প্রবণতাকেও দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশের এমন পরিবর্তন ঘটিয়েছে, যার ফলে আগুনের বিরুদ্ধে ভূমির স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেছে।
চলতি বছরের দাবানলে স্থানীয়ভাবে ঘন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার মানুষ। পাশাপাশি প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে।

বোর্নিওর একটি প্রদেশে ঘন ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানি ছোড়ার উড়োজাহাজও উড্ডয়ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
এ পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সোমবার দাবানল নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির কোনো কোনো এলাকায় তিন মাস ধরে আগুন জ্বলছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব তেদি ইন্দ্রা উইজায়া জানিয়েছেন, দাবানল মোকাবিলায় ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে ৬০ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে সরকার।