সৌদি আরবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এনিয়ে রিয়াদে চলমান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃটিশ বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি বিপি জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলনে সরাসরি অংশ নিতে পারছে না।
কোম্পানিটির এক মুখপাত্রের ভাষ্য, সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হলেও যাতায়াত ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এর আগে সম্মেলনের বক্তা হিসেবে বিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেগ ও’নিলের নাম তালিকাভুক্ত ছিল।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও এক্সনমোবিল, টোটালএনার্জিস ও শেলের প্রধান নির্বাহীরাও অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে শেল মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে, রয়টার্সের মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি টোটালএনার্জিস ও এক্সনমোবিল।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় সম্মেলন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে। শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছে এ সম্মেলন।
এদিকে, গত চার দিনে অন্তত তিনবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার ও রোববারের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববারের হামলায়ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রথম হামলার পর থেকেই রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৌদি আরবে ভ্রমণ এবং দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে চলাচলের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সম্মেলনে অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
