সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

ফন্ট সাইজ:

সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ ছুটির কারণে বিচার ব্যবস্থায় শ্লথগতি আসছে এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এই দীর্ঘ ছুটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডার দেখলে বোঝা যায় ৩৬৫ দিনের প্রায় অর্ধেক সময়ই ছুটির তালিকায় থাকে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব দীর্ঘ অবকাশ রয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্বে তিনি যখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন, তখনও এই অতিরিক্ত ছুটি কমিয়ে আনার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। দীর্ঘ অবকাশের কারণে বিচার বিভাগে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না এবং মানুষের অনিষ্পন্ন মামলার বোঝাও কমছে না।

ব্যারিস্টার কাজল জানান, দীর্ঘ ছুটিতে বিচারপতিরা তাদের অসমাপ্ত রায়গুলো লিখে শেষ করবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশার জায়গাটি পূরণ হচ্ছে না। অনেকে মাসের পর মাস একটি রায়ও লেখেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত কাজের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ছুটির বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এই অতিরিক্ত ছুটি বজায় রাখা বিচারপ্রার্থীদের জন্য জটিলতা তৈরি করছে। দীর্ঘ ছুটি কমিয়ে বিচারকদের কাজের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে বিচারাধীন মামলার জট অনেকাংশেই কমে আসবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন এবং প্রধান বিচারপতিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

একই সাথে তিনি কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ ও বিকাশ নিশ্চিতকরণে সরকারের নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ গ্রহণ এবং কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করার বিষয়েও কথা বলেন। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারাধীন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলো বর্তমান বেঞ্চটি দক্ষতার সাথে নিষ্পত্তি করছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।