ক্রিকেটের সবুজ গালিচায় বয়স কেবলই একটি সংখ্যা, তা আরেকবার প্রমাণ করলেন স্টিভেন স্মিথ। ডারবান টেস্টের তৃতীয় দিনে স্লিপে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য কিছু ক্যাচ লুফে নিয়ে নিজের নামের পাশে নতুন সব কীর্তি যোগ করলেন এ অস্ট্রেলিয়ান তারকা। পুনরুদ্ধার করলেন উইকেটকিপার বাদে টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ডও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্মিথের এই অতিমানবীয় ফিল্ডিং পারফরম্যান্স নিয়ে চারিপাশে চলছে প্রশংসার জোয়ার। সতীর্থ বোলার থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ শিবির-সবাই বিস্ময়ে হতবাক।
এদিন স্লিপে দাঁড়িয়ে স্মিথ যেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তোলেন। প্যাট কামিন্সের বলে ডেভিড বেডিংহামের কঠিন শট যেভাবে তিনি শূন্যে ভেসে দুই হাতে তালুবন্দী করেন, তা ছিল দেখার মতো। ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্তটি আসে নাথান লায়নের বলে কাইল ভেরেইনের বিপক্ষে। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ভেরেইনের ব্যাটে লাগা বলটি স্মিথ এমন এক অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে এক হাতে লুফে নেন, যা দেখে ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে সবাই তাজ্জব বনে যান।
এই অসাধারণ ক্যাচটির পর অভিভূত স্পিনার ন্যাথান লায়ন সংবাদ সম্মেলনে স্মিথকে প্রশংসায় ভাসান। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় ধরে প্রথম স্লিপ বা লেগ স্লিপে তাকে পেয়ে আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। তিনি খেলাটার জন্য দারুণ একজন মানুষ। এই ধরনের ক্যাচের জন্য তিনি যেভাবে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন, তা সত্যি অবিশ্বাস্য।’
এই ক্যাচগুলোর সুবাদে টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটকিপার ছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ডে আবারো ইংলিশ ক্রিকেটার জো রুটকে পেছনে ফেলেন ৩৭ বছর বয়সী স্মিথ। লাল বলের ক্রিকেটে স্মিথের মোট ক্যাচ এখন ২২৩টি, যেখানে রুটের ক্যাচ ২২০টি। এছাড়া লায়নের সঙ্গে স্মিথের জুটিতে টেস্টে এসেছে ৬৫টি ডিসমিসাল, যা বোলার-ফিল্ডার জুটির সর্বকালের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
শুধু নিজের দল নয়, স্মিথের এই অতুলনীয় দক্ষতায় মুগ্ধ প্রতিপক্ষও। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স দিন শেষে বলেন, ‘সে কেবল একজন ভালো ক্যাচারই নয়, তার পূর্বাভাস বা ধারণক্ষমতা অবিশ্বাস্য। খেলোয়াড়রা রিভার্স সুইপের প্রস্তুতি নেয়ার আগেই সে বুঝে ফেলে এবং এক হাতে বল লুফে নেয়। এটি সত্যিই বিশেষ কিছু।’
উইকেটকিপার ছাড়া টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচের তালিক স্মিথ ও রুটের পর আছেন যথাক্রমে ভারতের রাহুল দ্রাবিড় (২১০), শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে (২০৫) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস (২০০)।
