বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলটদের ওপর দেয়া ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলো এয়ার ফ্রান্স

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলটদের ওপর দেয়া ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলো এয়ার ফ্রান্স

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশসহ যেসব দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের উপর দেয়া ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলো এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের এক অনুসন্ধানের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৩১টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে।
ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, যেসব দেশের সঙ্গে তেল আবিবের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো কর্মী ইসরাইলি আকাশসীমায় প্রবেশ কিংবা অবতরণ করতে পারবেন না। বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, ব্রুনাই, কলম্বিয়া, কোমোরোস, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইরান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মৌরিতানিয়া, নিকারাগুয়া, নাইজার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এসব দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ফরাসি কর্মীরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন। তবে যেসব মুসলিম বা আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কো, তাদের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য নয়।
মিডিয়াপার্ট এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ নোটের বরাতে জানায়, কর্তৃপক্ষ তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছে তারা আর ইসরাইলের ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। পাশাপাশি সব কর্মীকে তাদের দ্বিতীয় জাতীয়তা প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

গত ৩০শে সেপ্টেম্বর দুবাই-তেল আবিব রুটের ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার একটি কথিত চেষ্টার প্রেক্ষাপটে ১লা অক্টোবর এই নির্দেশনা জারি করে ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয়। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো বিমান চলাচল খাতে কড়াকড়ি শুরু করে দেশটি। ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা নিজেদের প্রায় আড়াই হাজার পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত বৃত্তান্ত যাচাই করছে।
এদিকে জাতীয়তাভিত্তিক এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ কার্যকরের ফলে ফ্রান্সে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে এয়ার ফ্রান্স। দেশটির রাজনীতিবিদ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি ফরাসি শ্রম আইন ও বৈষম্যবিরোধী নীতিমালার পরিপন্থী, যা প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিয়ে এয়ার ফ্রান্স ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোকে কেবল জানিয়েছে, ফ্লাইট গন্তব্যের নির্ধারিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত নিয়ম মানতে তারা বাধ্য।