দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর সীমান্তে নিজ ক্ষেতে কাজ করার সময় বিএসএফের গুলিতে সাহাজুল (৩০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হন।
জানা গেছে, রোববার ভোরের দিকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে নদীপথে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। ৪ জনের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছেন। পরে ওই ৪ জন নৌকায় করে মুন্সীগঞ্জ সীমান্তে আসলে টের পান স্থানীয় জনতা ও বিজিবি। এ সময় ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে মাথাভাঙ্গা নদী পার করে সীমান্ত পিলার ১৫৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করেন বিজিবি। এরপর তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফসলি ক্ষেতের ভেতর অবস্থান করলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধীনস্থ উদয় কিষাণ ক্যাম্পে তাদের নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

এর আগে, শনিবার সকালে একই উপজেলার জামালপুর সীমান্তে নিজের ক্ষেতে কাজ করছিলেন কৃষক সাহাজুল। এ সময় ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধীনস্থ নাসিরাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা বিনা উস্কানিতে গুলি ছুড়লে ওই বাংলাদেশি কৃষক আহত হন। খবর পেয়ে জামালপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ালে বিএসএফের আমন্ত্রণে দু’দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবি’র কড়া প্রতিবাদে বিএসএফ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এদিকে রোববার সকালে বিএসএফের পুশইনের অপতৎপরতা রুখে দেয়ার পর সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি। পুশইনের বিষয়ে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতার কারণে বিএসএফের পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে, বিজিবি’র দৃঢ় অবস্থানের মুখে ৪ জন নাগরিককে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।