সরাইলে কলেজছাত্র রায়হান সারোয়ারের মুক্তির দাবিতে থানার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এরপর উপজেলা সদরেও পালিত হয়েছে। গতকাল বিকালে রায়হানের পিতা মিলন খাঁর নেতৃত্বে পরিবারের সদস্য স্বজন ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের কিছু লোক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। সূত্র জানায়, প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানা আক্তার আহত হওয়ার দুই মাস ১০ দিন পর গত ৩রা অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দুর্বৃত্তদের হামলার কথা বললেও মৃত্যু পর্যন্ত ফারজানার পিতা অহিদ হোসেন থানায় জিডি বা মামলা করেননি। মৃত্যুর ২ দিন পর ৫ই অক্টোবর গভীর রাতে পুলিশ ফরজানার ছোট বোন পাপিয়া আক্তার প্রীতি ও ভাই মোজাহিদ হোসেনকে আটক করে। রাতেই মোজাহিদকে ছেড়ে দিলেও প্রীতিকে গ্রেপ্তার দেখায়। সেই রাতে মোজাহিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা লোকদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভোরে প্রীতির প্রেমিক রায়হানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে প্রীতি ও রায়হান জেলহাজতে রয়েছে। মানববন্ধনে সরাইল সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র রায়হানকে নির্দোষ দাবি করে পিতা মিলন খাঁ, বড় ভাই সাইফুল খাঁ, সহপাঠী আরমান ও জাকারিয়াসহ অন্যরা বলেন- আমরা তদন্ত করে জেনেছি এটা তাদের পারিবারিক বিরোধের জের। ঘটনার আগের দিনও প্রবাসী স্বামীর দেয়া ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নিজেদের মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়া হয়েছে। তাদের এই কোন্দল দীর্ঘদিনের। প্রীতির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার আড়াই মাস পর তারা নির্দোষ রায়হানকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। রায়হানের জীবনটা ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে। আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকলে বিচার হোক। বিনা অপরাধে রায়হানের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিনা শর্তে দ্রুত রায়হানের মুক্তি ও মামলা থেকে অব্যাহতি চাই।
