উখিয়ায় ৪ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, দম্পতি গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ায় চার বছরের শিশু মো. ওমাইরকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। নিখোঁজের দুইদিন পর শনিবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহমান হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/১৩ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওমাইর ওই ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ই অক্টোবর থেকে ওমাইরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় পুলিশকে অবহিত করার পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়। পরদিন ৯ই অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি শিশুটির বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দাবির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং শিশুটির বাবা ও স্থানীয় রোহিঙ্গা মাঝিদের সহযোগিতায় শনিবার দুপুর ১টার দিকে আব্দুর রহমানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এপিবিএনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আব্দুর রহমান জানান, গত ৮ই অক্টোবর দুপুরে তিনি ওমাইরকে অপহরণ করেন। পরে ৯ই অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্ত্রী আনসার বেগমের সহযোগিতায় শিশুটির মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তি দেয়।

এরপর তাদের বসতঘরের উত্তর পাশে ব্র্যাকের ওয়াশ কার্যক্রমের ময়লার ট্যাংকির পশ্চিম দিকে টিনের বেড়ার ভেতরে একটি বস্তায় মরদেহ ভরে লুকিয়ে রাখা হয় বলে জানান তিনি। পরে অভিযুক্ত দু’জনের দেখানো মতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে এপিবিএন, থানা-পুলিশ ও স্থানীয় মাঝিদের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বাবা মরদেহটি তার ছেলে ওমাইরের বলে শনাক্ত করেন। পরে উখিয়া থানা-পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ১১ই অক্টোবর উখিয়া থানায় হত্যা, অপরাধের আলামত গোপন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৩০। গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী আনসার বেগমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।