সড়কে ছুটছে ডাম্পার, ট্রাক ও পিকআপ। বিপরীত দিক থেকে আসছে যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। একটু অসতর্কতা কিংবা মুখোমুখি সংঘর্ষেই নিভে যাচ্ছে প্রাণ। স্বজনদের কাছে ফিরছে লাশ। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ই অক্টোবর টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের কেরুনতলী এলাকায় পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এর আগে একই এলাকায় ডাম্পার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দু’জনের। উখিয়ার বাগান পাহাড় ও আমতলী এলাকাতেও ঘটেছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। সবমিলিয়ে সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১০ই অক্টোবর হোয়াইক্যংয়ের কেরুনতলী এলাকায় পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হন। এর আগে ১২ই আগস্ট একই এলাকায় ডাম্পার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারান দু’জন। গত ২৭শে জুলাই উখিয়ার বাগান পাহাড় এলাকায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই বোনসহ তিনজন নিহত হন। ২০শে মে উখিয়ার আমতলী এলাকায় ডাম্পারের চাপায় এক নারী নিহত হন। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো এবং অবৈধভাবে চলাচলকারী ডাম্প ট্রাক বা ডাম্পারের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে কিছু ব্যক্তি ডাম্পার, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চালাচ্ছেন। সকালে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে দিনভর যানবাহন চালানোর পর রাতে ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে তাদের দাবি। আবার কেউ কেউ ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসায় থেকে যানবাহন চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি নুর মুহাম্মদ সিকদার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন প্রয়োগ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে হবে।
শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের ওসি আদেল আকবর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করা জরুরি। দুর্ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। চালক ও যাত্রীদের সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে চলবে না; দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের লাইসেন্স ও দক্ষতা যাচাই, অপ্রাপ্তবয়স্কদের গাড়ি চালানো বন্ধ, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। একইসঙ্গে সড়কে চলাচলকারী সব চালকের বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং আইন প্রয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
