রংতুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে কখনো জীবন্ত মানুষের ছবি, কখনো প্রাকৃতিক দৃশ্য আবার কখনো রণাঙ্গনের যুদ্ধের দৃশ্যসহ ফুটিয়ে তোলে জীবনের নানান ছবি। কখনো তার কণ্ঠে বাজে দেশাত্মবোধক গান, কখনো বা ইসলামী সংগীত ও হামদ-নাত মুগ্ধ করে শ্রোতাদের। কবিতা আবৃত্তি, ছড়াগান কিংবা কোরআন তিলাওয়াত- সবখানেই স্পষ্ট তার সহজাত উপস্থিতি। বয়সের তুলনায় এই বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে মানিকগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে ফাতেমা আনসারী জান্নাত রিদি। মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে শুরু হওয়া তার সৃজনশীল যাত্রার বিকাশ এখন জেলা পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও সাফল্যের নতুন স্বাক্ষর রাখছে। জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে রিদির এই পথচলা হতে পারে যেকোনো সম্ভাবনাময় কন্যাশিশুর মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নপূরণের এক অনন্য প্রেরণা। মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিদি। তার বাবা রিপন আনসারী পেশায় একজন সাংবাদিক এবং মা শাহিন নাহার লিমা স্কুলশিক্ষিকা।
মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্লে গ্রুপে ভর্তির মধ্যদিয়ে রিদির পড়াশোনা ও শিল্পচর্চার শুরু। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থাগার ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য উপহার দিয়েছে জান্নাত। জেলা প্রশাসনের ‘মানিকগঞ্জের ইতিবৃত্ত’ বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় নিম্নমাধ্যমিক বিভাগে উপজেলা ও জেলা- উভয়পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করে সে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি, শিশু অধিকার দিবস ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়ও পেয়েছে জেলা পর্যায়ের সাফল্য। ‘মার্কস অলরাউন্ডার’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জেলাপর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জান্নাত। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পেয়েছে জেলাপর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান।
জাবাল-ই-নুর দাখিল মাদ্রাসা আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে ‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে এই কিশোরী। ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য নিজের মতো করে তুলে ধরায় এখানেও বিজয়ের সনদ পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় জেলাপর্যায়ে প্রথম এবং দলীয় সংগীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সে। ?এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক পুরস্কার পেয়ে আসছে জান্নাত। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে ফাতেমা আনসারী জান্নাত বলে, ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক চর্চাকে হৃদয়ে ধরে রেখে একজন দক্ষ ও মানবপ্রেমী চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাই। রিদির এই সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সুন্দর চর্চা অব্যাহত রেখে জান্নাত ভবিষ্যতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
