কোটিপতি ড্রাইভার

কোটিপতি ড্রাইভার

ফন্ট সাইজ:

কোটি টাকার মালিক মোজাহার। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তিনি। ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালকের গাড়িচালক। মোজাহার গাড়িচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেও প্রভাব খাটিয়ে কোটিপতি বনে গেছেন। তিনি নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এভাবেই কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ময়মনসিংহসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তার বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমিয়েছেন কোটি টাকা। তার এসব দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে শেখ মোহাম্মদ দীন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী বলেন, একজন গাড়িচালক যদি কোটি টাকার মালিক বনে যায় তাহলে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কতো কোটি টাকার মালিক হতে পারে। তবে গাড়িচালক মোজাহার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ময়মনসিংহ শহরে একটি ফ্ল্যাট আছে। ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছি। আর ১৫ হাজার টাকায় আমি একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকি।

জানা গেছে, মোজাহারের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। দেখতে সাদামাটা। গাড়িচালক পেশার সুবাদে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড নেই যা তিনি করেন না। তবে অধিদপ্তরের নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সবই তার নিয়ন্ত্রণে। তৃৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। তার চক্রে ছিল একাধিক লোক। তার ভয়ে কারও মুখ খোলার সাহস ছিল না। কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানি করতেন। তার ওপর নেমে আসতো খড়গ। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে হয়েছেন টাকার কুমির। বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট-সবই আছে তার। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর পৌর ভূমি অফিসের কাশর মৌজায় স্ত্রী ইসরাত আরার নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। রংপুর মহানগর সার্কেল তপোধন পৌর ভূমি অফিস নৌহাটি কাছনা মৌজায় ১৮ শতক জমি তার নিজ নামে। লালমনিরহাট সদর পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে চৈতন্য সীতারাম মৌজায় ১৯ শতক ও সাদেক নগর ১১৩ মৌজায় ৫ শতক জমি রয়েছে। এ বিষয়ে গাড়িচালক মোজাহার আলী বলেন, আপনি আমাকে চেনেন, আমার জেঠাত ভাই এমপি। আমাকে অনেক সাংবাদিক ফোন দিয়েছে, কথা বলেছে, কিছু হয়নি।

গাড়িচালক মোজাহারের রূপকথার গল্প ‘আলাদীনের’ মতো। আলাদীন যেমন জাদুর চেরাগ পেয়ে শূন্য থেকে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি গাড়িচালকের চাকরি পেয়ে শূন্য থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কিনেছেন বহু ফসলি জমি। দামি বাড়ি, প্লট-ফ্ল্যাট। আর সেই টাকায় বিলাসী জীবনযাপনের পাশাপাশি গড়েছেন একের পর এক সম্পদ। দপ্তরের একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপ-পরিচালকের গাড়ি চালানোর সুবাদে আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রায় সব গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের গতিবিধি আগে থেকেই জেনে যেতেন মোজাহার। এই সুযোগে তিনি শিক্ষকদের বদলি ও এমপিও বাণিজ্য করতেন। দুর্গম অঞ্চল থেকে সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানে বদলি এবং এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযোগকারী শেখ মোহাম্মদ দীন বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। সব জায়গা দুর্নীতিবাজে ভরে গেছে। অভিযোগ দিয়েছি তার অপকর্ম মানুষের সামনে নিয়ে আসতে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. নাসির উদ্দীন বলেন, মোজাহার আমার গাড়িচালক। তার অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে আমি জানি না। তবে তাকে আমি যা বলি তাই সে করে। সে ভালো মানুষ। চাকরি যেহেতু করে জায়গা সম্পত্তি করতেই পারে।