যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের ৭ সদস্যসহ ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, হামলাকারীর আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের ৭ সদস্যসহ ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, হামলাকারীর আত্মহত্যা

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরের একটি বাড়িতে একই পরিবারের সাত সদস্য ও এক পারিবারিক বন্ধুকে গুলি করে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। পরে পুলিশের অভিযানের আগেই নিজের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে নিজের কর্মজীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য বলে বর্ণনা করেছেন পুলিশপ্রধান।
নিহতদের বয়স ২২ মাস থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে দুই শিশু ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরি পুলিশ।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে গুলির শব্দ শনাক্তকারী প্রযুক্তি শটস্পটার থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছে বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশীর বাড়িতে স্থাপিত রিং ডোরবেলের ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দুই নারী উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়িটির সামনে এসে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইছিলেন এবং দরজায় বারবার আঘাত করছিলেন।

তদন্তকারীরা ভিডিওর অডিও বিশ্লেষণ করে বাড়ির ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে জানান পুলিশপ্রধান। তাদের ধারণা, এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাইরে এসে ওই দুই নারীকে গুলি করেন। পরে তিনি আবার বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ভেতরে কারও উপস্থিতি বা নড়াচড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি। পরে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী দল (সোয়াত) বাড়ির কয়েকটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় একটি রোবটের সাহায্যে একাধিক মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
তদন্তকারীদের ধারণা, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজের গুলিতে মারা যান। পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে আটজন, সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ, একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারীর মধ্যে একজন ছিলেন পরিবারের বন্ধু। সন্দেহভাজন হামলাকারীর বয়স ৪৫ বছর। তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। দ্বিতীয় তলায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত একটি .৪০ ক্যালিবারের হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান। বাড়ির ভেতরে নিহত সবাই ওই বাড়িতেই বসবাস করতেন। তবে বাইরে নিহত দুই নারী সেখানে থাকতেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।