ভারতে আটক সব বিক্ষোভকারীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে ফের অনশন কিংবা শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক্সে প্রকাশিত ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়া না হলে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা বিবেচনা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে অবস্থান কর্মসূচি, অনশন কিংবা দিল্লি বা লেহতে পদযাত্রা।
তবে সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে এবং এসব কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গত জুলাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রথম দফার আন্দোলনের সময় ২৬ দিন অনশন করেছিলেন ওয়াংচুক।
আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ বিক্ষোভের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনশনের ২০তম দিনে তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নেয়া হলে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রতি সমর্থনও বাড়তে থাকে। আরও কয়েক দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর তা প্রত্যাহার করেন তিনি।
ভারতে ১৯৭০-এর দশকে জারি করা জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন নাগরিক স্বাধীনতা ও অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার থেকেই থমথমে দিল্লি। বিক্ষোভ দমাতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শনিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত আট হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়।
